প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান বিক্ষোভের ফলে প্রায় অচল হয়ে পড়া বলিভিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ। তিনি সোমবার বলেছেন, চলমান অস্থিরতার পেছনে রয়েছে ‘মাদক-সন্ত্রাসীরা।’ একই সঙ্গে তিনি জরুরি অবস্থা জারির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা কার্যকর হলে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সুযোগ তৈরি হবে। পাজ সতর্ক করে বলেছেন, তাদের দিন ফুরিয়ে আসছে। বিক্ষোভকারীরা কয়েক সপ্তাহ ধরে মিছিল ও সড়ক অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে দেশটি প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। খাদ্য ও জ্বালানির দাম বেড়ে গিয়ে দেখা দিয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট। লা পাজ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। অবরোধ সরাতে দাঙ্গা পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে, কিন্তু গুলিবর্ষণের মুখে তাদেরকে পিছু হটতে হয়েছে। এতে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা পাথর নিক্ষেপ ও টায়ারে আগুন দিয়েছে। দেশটির মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তর জানিয়েছে, অন্তত ১৪ জন বেসামরিক নাগরিকও এতে আহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজের নবীন সরকারের কাছে গভীর অর্থনৈতিক সংকট সমাধানের দাবি জানিয়েছে। অন্যান্য বিক্ষোভকারীরা তার পদত্যাগও দাবি করছে। রবিবার দেশটির আইনসভা একটি নতুন আইন পাস করেছে, যার মাধ্যমে পাজ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারবেন। এতে আন্দোলন দমন ও সড়ক অবরোধ দমনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন মিলবে। পাজ দাবি করেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস ও তার কোকা চাষি সমর্থকরা সরকারকে অস্থিতিশীল করতে বিক্ষোভকে উসকে দিচ্ছেন। দুই দশকের মধ্যে বলিভিয়ার প্রথম রক্ষণশীল সরকার হলো পাজ প্রশাসন। জরুরি অবস্থা বিষয়ক নতুন আইনে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে পাজ বলেন, ‘যখন মাদক-সন্ত্রাসবাদ ও কিছু পক্ষের অগ্রাধিকার আমাদের গণতন্ত্র ও সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে না, তখন আমাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘তারা বলিভিয়ার সমাজের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।’ সোমাবার শত শত বলিভিয়ান সাদা পতাকা হাতে নিয়ে এবং ‘লা পাজে শান্তি চাই’— এই স্লোগান দিয়ে শহরের কেন্দ্রস্থলে মিছিল করেছে। তারা সড়ক অবরোধের অবসান দাবি করেছেন। বাজারের দোকান ছেড়ে মিছিলে যোগ দেওয়া বিক্রেতা নিনোস্কা দিয়াজ এএফপিকে জানিয়েছেন, ‘আমরা আর মানুষের ক্ষুধা সহ্য করতে পারছি না। তাদের খাদ্যের ঝুড়ি খালি হয়ে গেছে।’ রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ প্রদত্ত এক বার্তায় পাজ লিখেছেন, রাজধানী লা পাজ ও দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এল আল্টো এখনো কঠিন সময় পার করছে। তবে জ্বালানি সরবরাহসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি শুরু হয়েছে। ব্যবসাবান্ধব পাজ গত নভেম্বরে ক্ষমতায় আসেন এবং তিনি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তার অজনপ্রিয় অর্থনৈতিক সংস্কার ও সামাজিক দাবির প্রতি যথাযথ সাড়া দিতে ব্যর্থতার ফলে জনঅসন্তোষ বৃদ্ধি পেয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন