প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফুটবল খেলার কারণে সংঘর্ষে ১৩ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৫টায় উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের তুলাকান্দি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। খবর পাওয়ার পর ভৈরব থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন: সেলিম মিয়া, দুলাল মিয়া, মগল মিয়া, আলাল মিয়া, সুমন মিয়া এবং দুলাল মিয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও, জালাল মিয়া ও রশিদ মিয়া উপজেলা কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. শাহরিয়ার।
তিনি জানিয়েছেন, ‘বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন।’
এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের তুলাকান্দি এলাকার যুবকদের মধ্যে বিবাহিত ও অবিবাহিত দুটি পক্ষের মধ্যে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলা শেষে সন্ধ্যায় হারজিত নিয়ে বাকবিতণ্ডা তৈরি হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। স্থানীয়রা ঘটনাটি মীমাংসা করলেও, মারামারির বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে একটি পক্ষ তৈরি হয়।
এর মধ্যে এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন নীল মিয়া ও সালাউদ্দিন মিয়া। অপর পক্ষের নেতৃত্ব দেন মোয়াজ্জেম মিয়া ও বাছির মিয়া। ওই দিন রাতে নীল মিয়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার সময় অপর পক্ষের লোকজন তাকে আটকিয়ে মারধর করে। এ সময় নীল মিয়াসহ দুজন আহত হন। রাতের দিকে এ ঘটনায় ভৈরব থানায় লীল মিয়া অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ মোয়াজ্জেম মিয়া (৫৫), সেলিম মিয়া (৪০) এবং তার ১৮ বছরের ছেলেকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।
২০ জুন এক যুবক মোয়াজ্জেম মিয়া এবং বাছির মিয়ার বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে মারধর করা হয়। এই ঘটনার সূত্র ধরে দুপক্ষ ইটপাটকেল, লাঠিসোঁটা এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উভয় পক্ষের ১৩ জন আহত হন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নীল মিয়া বলেছিলেন, ‘কিশোরদের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়েছে। আমি তো জানি না। আমাকে কেন আটক করে মারধর করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমি আইনি সহায়তা নিয়েছি।’
এ বিষয়ে লিটন মিয়া জানান, ‘দুই কিশোরের ফুটবল খেলা নিয়ে মারামারি হয় তারই ফলস্বরূপ আজ বিকালে হঠাৎ করে দুই বংশ সংঘর্ষে লিপ্ত হলে আমি ফিরতে গিয়ে আহত হয়েছি।’
ভৈরব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লিমন বোস বলেন, ‘গত ১৯ জুন একটি তুচ্ছ ঘটনায় তুলাকান্দি গ্রামে ঝগড়া হলে নীল মিয়া নামে এক ব্যক্তি থানায় অভিযোগ করেন। রাতেই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। ২০ জুন একই বিষয় নিয়ে মারামারি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন