প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একটি প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দীর্ঘ ৩৭ দিনের ছাত্র আন্দোলনের পরে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগের পর ভারত সরকারের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সংসদ সদস্যরা তাকে সংবর্ধনা দিয়েছেন। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে কেন্দ্র করে ভারতীয় লোকসভায় নতুন করে সমালোচনা উঠেছে।
মঙ্গলবার লোকসভায় কংগ্রেসের সাংসদ গৌরব গগৈ বলেছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর বিজেপির সদস্যরা তাকে এভাবে বরণ করে নিয়েছেন যেন তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জিতে ফিরেছেন।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, সোমবার সংসদে প্রবেশের সময় ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ঘিরে বিজেপি সংসদ সদস্যরা ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিয়েছেন। এ সময় একজন সাংসদ তার মাথায় ঐতিহ্যবাহী টুপি পরিয়ে দেন এবং কাঁধে শাল পরিয়ে দেন।
গগৈ এ সম্পর্কে বলেন, “পদত্যাগের পর তিনি সংসদে প্রবেশ করলে বিজেপি সংসদ সদস্যরা তাকে এমনভাবে সংবর্ধনা দিয়েছেন, যেন তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করে ফিরেছেন।”
কংগ্রেসের অপর নেতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও এ ঘটনার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “আপনারা কি মনে করেন না এটা লজ্জাজনক? ধর্মেন্দ্র প্রধান কী পরিস্থিতিতে পদত্যাগ করেছেন তা সবাই দেখেছে, কিন্তু সংসদ চত্বরে তাকে এমনভাবে স্বাগত জানানো হলো যেন তিনি একজন সুপারস্টার।”
লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দেওয়া সংবর্ধনার সমালোচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, “ধর্মেন্দ্র প্রধান দুর্নীতি এবং ভারতের ধ্বংসপ্রাপ্ত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতীক ছিলেন এবং থাকবেন। সেই ব্যবস্থাই ২৬টি শিশুর জীবন কেড়ে নিয়েছে এবং লাখ লাখ যুবককে রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে।”
রাহুল গান্ধীর বক্তব্য অনুযায়ী, নৈতিক দায় থেকে নয়, বরং তরুণদের ক্ষোভের ভয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, “আজ সেই ব্যক্তিকেই সংসদে মালা পরিয়ে সম্মান জানানো হচ্ছে। এটি কোনও সম্মান নয়, বরং লাখো শিক্ষার্থীর নষ্ট হয়ে যাওয়া ভবিষ্যতের উদযাপন। দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থী এই দৃশ্য দেখছে এবং এর সঙ্গে জড়িত প্রতিটি মুখ মনে রাখবে।”
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন রাজ্যে প্রসারিত হওয়া শিক্ষার্থী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। মাস পর, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।
গত মে মাসে নিট (এনইইটি) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠলে সরকার তদন্ত শুরু করে এবং ফল প্রকাশ স্থগিত করে, এরপর জুনে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে পরীক্ষার্থীদের আবারও প্রস্তুতিতে ফিরতে হয়।
এদিকে, পরীক্ষার সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের মৃত্যু নিয়ে সরকার এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে সিজেপির দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানসিক চাপের কারণে অন্তত ২১ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন