প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের বিগত ২০ বছরের ইতিহাসে সরকারি চাকরি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনো প্রকার তদবির বা উৎকোচ ছাড়াই মাত্র ১২৫ টাকা খরচের মাধ্যমে চাকরি পাওয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় একটি বিরল ঘটনা উল্লেখ করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি।
সোমবার ঢাকার তেজগাঁও ভূমি ভবনের ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় সেমিনার হল রুমে নবযোগদানকৃত কর্মচারীদের (পেশকার) জন্য একটি ওরিয়েন্টেশন শীর্ষক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করছেন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল হাছানাত এবং প্রধান অতিথি হিসেবে ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, এমপি উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, 'কেউ যদি তদবির ছাড়া মাত্র ১২৫ টাকা খরচ করে চাকরি পায় এবং তাঁদের অভিজ্ঞতা কাহিনী শোনা যায়, তাহলে তা আমাদের জন্য একটি বিশেষ বিষয়।' তিনি আরও বলেন যে, বিগত ২০ বছর দেশ দুর্নীতি ও অনিয়মের শিকার ছিল। মাঠ পর্যায়ে কাজ করা কিছু বিপথগামী দুষ্ট লোকের দুর্নীতি পুরো ভূমি ব্যবস্থাপনাকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই সকলের জন্য প্রয়োজনীয় যে, দুর্নীতিমুক্তে থেকে সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
এদিকে, প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল আরও উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে ঘোষিত ৩১ দফা অনুসরণ করে সরকারের কাছে জনগণের প্রতি দৃঢ় প্রত্যয় প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেশের জন্য ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নে আত্মনিয়োগ করেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'যারা সরকারি সেবা নিতে অফিসে আসেন, তারাই এ দেশের প্রকৃত মালিক। কাজেই আপনাদের অনুভব করতে হবে যে, এই জনগণই প্রজাতন্ত্রের মালিক এবং সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার পুরো দায়িত্ব আমাদের।'
তিনি একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের গুরুত্বও তুলে ধরেন, যেখানে প্রান্তিক জনগণের কাছে যথাযথ সেবা পৌঁছায় এবং 'সবার আগে বাংলাদেশ' চেতনা অন্তরে ধারণ করে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ নির্মাণের আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, 'স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যোগদানকারী নতুন পেশকারদের সততা ও মনোভাব প্রশংসনীয়।' তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শ্রেণি বৈষম্য দূর করা, দুঃখী মানুষের কল্যাণ সাধন এবং দুর্নীতিমুক্ত কর্মপরিবেশ গড়তে বদ্ধপরিকর। নবযোগদানকৃত কর্মচারীদের তাদের বাবা-মা ও শিক্ষকদের সম্মান রক্ষা করে সততার সঙ্গে দেশের কল্যাণে কাজ করার পরামর্শও দেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, ভূমি সংক্রান্ত সেবায় জনগণ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজর দিতে হবে। সরকার জনগণের দুর্ভোগ দূর করতে 'সিটিজেন সার্ভিস' চালু করেছে এবং দীর্ঘদিন আটকে থাকা কানুনগো পদে পদোন্নতি নিশ্চিত করেছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নবযোগদানকৃত কর্মচারীদের পক্ষে ফারহানা খাতুন, শিহাব উদ্দিন ও শাকিল আহমদ আবেগ-আপ্লুত কণ্ঠে সরকারের প্রতি তাদের গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যে কারণে তারা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রক্রিয়ায় চাকরি পেয়েছেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) আবদুল্লাহ আল বাকী, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এ জেড এম সালাহউদ্দিন নাগরীসহ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতর এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন