প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও গলাকেটে হত্যা করার অভিযোগে রায় ঘোষণার পর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা। তিনি বলেন, "এই রায় দ্রুত কার্যকর করা উচিত।" রোববার (৭ জুন) দুপুরে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে আসামি সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়টি ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।
রায় ঘোষণার আগে আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, হত্যার আগে রামিসার ধর্ষণ এবং বিভিন্ন স্থানে জখমের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া আসামির স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারের কোন আবেদন না থাকায় বোঝা যায়, সোহেল স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করেছে। এছাড়া রামিসার স্বামীকে পালাতে সহযোগিতা করায় স্ত্রী স্বপ্নাকেও দণ্ডিত করা হয়েছে।
এর আগে রোববার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্বপ্না খাতুনকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকা মহানগর আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে আসে পুলিশ। তাদের দুজনকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
গত ১ জুন সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত বিচার শুরুর আদেশ দেয়। ২ জুন শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। ওই দিন ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। পরে ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
মামলার এজাহার অনুসারে, গত ১৯ মে সকালে সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা ঘর থেকে বের হয়। এ সময় তাকে কৌশলে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন স্বপ্না। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা। একপর্যায়ে সোহেলের দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানেই সোহেলের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বড় বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পান তারা।
পরে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ২০ মে পল্লবী থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন