প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঝিনাইদহ প্রতিনিধির প্রতিবেদন অনুসারে, ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক (এন-৭) ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ ছয় বছর ধরে থমকে রয়েছে। এই প্রকল্পের অধিগ্রহণ কাজ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্পন্ন করে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর উদাসীনতা এবং চরম গাফিলতির কারণে নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। যখন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে, ঠিক তখনই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতায় মহাসড়কজুড়ে খাদ ও খানাখন্দের ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসক দপ্তরের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা কালীগঞ্জ এলাকার ৪৫ শতাংশ এবং ঝিনাইদহ সদর এলাকার প্রায় ৫০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করে ইতিমধ্যে উইকেয়ার প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছে। প্রশাসনিক সব সুযোগ-সুবিধা প্রদান করার পরও রাস্তার নির্মাণ কাজের কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না, এমন অভিযোগ এসেছে।
প্রকল্পের অগ্রগতির থমকে থাকায় দায়িত্বাক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনায়েম লি. এবং লট-১ এর ম্যাক্স ফার্মের লোকাল প্রতিনিধিরা দায়ী। অভিযোগ রয়েছে, দ্রুত প্রশাসনিক সহযোগিতা পাওয়ার পরও তারা কাজ পরিচালনায় গড়িমসি ও টালবাহানা করছে।
জানা যায়, জমি অধিগ্রহণের জন্য সরকারের ৬টি বিভাগ যুক্ত ছিল, তাদের সমন্বয়হীনতার কারণে জরিপ ও পরিদর্শন রিপোর্ট তৈরিতে দেরি হয়েছে। ফলে জমি অধিগ্রহণের কাজ ধীরগতির হয়েছে। তবে এখন ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে জমি মালিকদের প্রাপ্য টাকা দ্রুত দেওয়া হচ্ছে।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুবীর কুমার দাশ জানান, তিন সপ্তাহের মধ্যে জমি অধিগ্রহণের কাজ ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। তিনি জানান, তাদের গাফিলতি নেই বরং দ্রুততার সঙ্গে কাজ চলছে। প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে তাৎক্ষণিক চেষ্টা চলছে।
কর্মকর্তাগণ জানান, জমি অধিগ্রহণে ধীরগতির কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সময়মতো কাজ শুরু করতে পারেনি; তবে মার্চ ও জুলাই মাসে তারা বেশ কিছু জমি বুঝে পেয়েছে এবং তাই কাজ এখন দ্রুত এগোবে।
লট-২ ও ৩ এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী তুহিন আল মামুনের বক্তব্য অনুযায়ী, জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে জমি পাওয়ার পরও ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে মাত্র দুই শতাংশ কাজ হয়েছে। কাজের গতি বাড়ানোর জন্য বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও তারা কোনো গুরুত্ব দেয়নি।
এদিকে, সড়ক কাজের এই অগ্রগতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরমভাবে বিপর্যস্ত করছে, বিশেষ করে ভোমরা, বেনাপোল এবং মংলা বন্দরের মালামাল পৌঁছানোর একমাত্র পথ ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক। ভুক্তভোগী বসির উদ্দীন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঠিকাদারদের খামখেয়ালিপনার কারণে পুরো রাস্তা এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে এবং যানবাহন চালাতে সমস্যা হচ্ছে।
এছাড়া, প্রকল্পের ব্যয় ২০২০ সালে ৪ হাজার ১৮৭ কোটি টাকায় অনুমোদিত ছিল, এখন তা বেড়ে ৬ হাজার ৬২৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। কাজের অগ্রগতি না থাকায় বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তাগণ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, প্রকল্পের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর ২০২৬ শেষ হচ্ছে, তবে তা বর্ধিত করা হবে কিনা তা পরবর্তী সভায় সিদ্ধান্ত হবে।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন জানান, দ্রুতগতিতে কাজ সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন