প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাইক্রোবাসের চালক ও যাত্রীর মধ্যে ভাড়া নিয়ে হাতাহাতির জের ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। বুধবার (১০ জুন) বিকেল থেকে রাতের মধ্যে চলে এই সংঘর্ষ। এর পর পুলিশের টিয়ারসেল নিক্ষেপ ও লাঠি চার্জের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়।
প্রতিবেদকের তথ্য অনুযায়ী, এ সংঘর্ষের ঘটনায় ৩৫ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে পরিবহন শ্রমিক নেতা সিয়াম ও তানভীর নামের দুই জনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়।
অন্যান্য ১৫ জনকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং বাকিরা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেয়।
সংঘর্ষের সময় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে এবং টার্মিনালের ভেতরে থাকা কয়েকটি বাস ভাঙচুর সহ অন্তত ৩০টি দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
ভৈরব থানার পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হলে কিশোরগঞ্জ থেকে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান শেলির নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাবের সহায়তায় রাত ১২ টায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে টিয়ার সেল নিক্ষেপ ও লাঠি চার্জের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। সংঘর্ষের ফলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উভয় পাশে যানজট সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, গত পরশু দিন ভৈরব দুর্জয় মোড়ের ভৈরব পুর এলাকায় একজন যাত্রী দুই মহিলা নিয়ে মাইক্রোবাস ভাড়া করতে আসলে ভাড়া নিয়ে মাইক্রোচালক পলাশের সঙ্গে যাত্রীর হাতাহাতি হয়। পলাশ কমলপুর এলাকার বাসিন্দা এবং যাত্রীর বাড়ি ভৈরবপুর এলাকায়।
এই হাতাহাতির কারনে ভৈরব পুরের যাত্রীর স্বজনরা বুধবার বিকেল ৩টায় পরিবহন শ্রমিক পলাশের বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর করে। এর পর পরিবহন শ্রমিক পলাশের লোকজন পাল্টা লোকজন নিয়ে এসে ভৈরবপুর এলাকার একটি রেস্টুরেন্ট ও শো-রুম ভাঙচুর করে। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় উভয় দল দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
এ সময় ঢাকা সিলেট মহাসড়ক দখল করে উভয়পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে, যার কারণে সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
কিশোরগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান শেলি বলেন, ভাড়া নিয়ে পরিবহন শ্রমিকদের সাথে স্থানীয়দের মধ্যে হাতাহাতির কারণে রাতের দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পাওয়ার পর অতিরিক্ত ফোর্সসহ ভৈরবে এসে রাত ১২ টার দিকে টিয়ারসেল ও লাঠি চার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আশা করি, আর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে না। এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন