প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের খবর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে উঠে এসেছে। রয়টার্স, বিবিসি, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, ব্লুমবার্গের মতো প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ নিয়ে বিস্তৃত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির বিদায় ঘটেছে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই, এবং তার শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে জানায়, শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। এই দেশের শীর্ষ সাংবিধানিক প্রধান, যিনি ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি এমন এক সময়ে বিদায় নিচ্ছেন যখন দেশে একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে। যদিও বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত অলঙ্কারিক, নির্বাহী ক্ষমতার মূল চালিকাশক্তি হলেন প্রধানমন্ত্রী এবং তার মন্ত্রিসভা।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণার পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ওপর পদত্যাগের রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়। বিবিসি বাংলার বরাতে বলা হয়, ক্ষমতাসীন বিএনপি নেতাদের পক্ষ থেকেও পদত্যাগের জোর দাবি ছিল। তাই, আনুষ্ঠানিকভাবে অসুস্থতার কথা বলা হলেও এই পদত্যাগের মূল কারণ হিসেবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকেই চিহ্নিত করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রাণহানির ঘটনায় বিচারপ্রক্রিয়া এবং শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করে। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করার পর রাষ্ট্রপতির অবস্থান বঙ্গভবনে আরও নড়বড়ে হয়ে পড়ে।
হংকংভিত্তিক গণমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সারওয়ার আলমের বরাতে জানায়, অসুস্থতা ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তার কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অপারগতা জানান দিয়ে পদত্যাগ করছেন। তবে তিনটি গোপন সূত্রের বরাতে তারা দাবি করেছে, রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে তার ওপর সরকারের তরফ থেকে পদত্যাগের পরোক্ষ চাপ তৈরি হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পদত্যাগের ফলে আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করা শেখ হাসিনা রাষ্ট্রযন্ত্রের উচ্চপর্যায়ে তার শেষ সংবিধানসম্মত মিত্রকেও হারালেন।
মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের এপ্রিলে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৭৬ বছর বয়সী এই রাষ্ট্রপতির অসময়ে বিদায় বাংলাদেশে আরেকটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করল। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা রক্ষার ক্ষেত্রে সাহাবুদ্দিনই ছিলেন অন্যতম প্রধান সংবিধানসম্মত পথ।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বাংলাদেশের সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধান উল্লেখ করে জানিয়েছে যে, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দিলে তা কার্যকর হয়। বিদেশে চিকিৎসাধীন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ দেশে ফেরার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র পৌঁছানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
সংবিধান অনুযায়ী পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে হবে। সংসদে বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাদের মনোনীত প্রার্থীই বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপ্রধান হতে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন