প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী নাসিমা খানকে হারিয়ে পরিবার শোকস্তব্ধ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে জানাজা শেষে আজিমপুর পুরনো কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে মায়ের শেষ বিদায়ে অংশগ্রহণ করেছেন বড় ছেলে উপল। তিনি জানিয়েছেন, মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ হলেও ছোট ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ থেকে গেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে আজিমপুর পুরাতন কবরস্থান মসজিদে নাসিমা খানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার পর দুপুর ২টার দিকে তাকে কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ সময় সেখানে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মাকে হারানোর শূন্যতা প্রকাশ করতে গিয়ে উপল বলেন, “আমার মায়ের মতো মা পৃথিবীতে কম আছে। আজ আমি যেখানে পৌঁছাইছি, আমার মা না থাকলে সেটা সম্ভব হতো না।”
মায়ের সঙ্গে শেষবার কথা বলার স্মৃতিও গণমাধ্যমের সঙ্গে ভাগ করে নেন তিনি। উপল জানান, মৃত্যুর এক দিন আগে ফোনে মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল তার। তখন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন নাসিমা খান। ভিডিও কলে ছেলেকে চিনতে পারলেও তার কথা বুঝতে পারছিলেন না অভিনেত্রী।
মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে পেরেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে উপল জানান, ধর্মীয় রীতি মেনে দাফন করার ইচ্ছা ছিল নাসিমা খানের। বৃহস্পতিবার সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। তবে তার আরেকটি আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণই রয়ে গেছে। কয়েক মাস ধরে নিখোঁজ ছোট ছেলেকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।
উপল বলেন, “মায়ের শেষ ইচ্ছা ছিল ধর্মীয় নিয়ম অনুসারে দাফন করা। সেটি তো হলোই। আরেকটি ইচ্ছা ছিল, আমার ছোট ভাই কয়েক মাস ধরে নিখোঁজ। তাকে ফিরে পাওয়াই ছিল তার সবচেয়ে বড় ইচ্ছা, যেটা এখনো পূরণ হয়নি। আমি চেষ্টা করব, তাকে যেন ফিরে পাই।”
নাসিমা খানের দুই ছেলে। বড় ছেলে উপল পড়াশোনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। বর্তমানে সেখানেই একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তিনি। আর ছোট ছেলে নাবিল নাসির কুশল মায়ের সঙ্গে আশুলিয়া থানাধীন ভাদাইল এলাকার বাড়িতে থাকতেন। গত ফেব্রুয়ারিতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি তিনি।
এর আগে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন নাসিমা খান। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, কুশল সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত। তবে এর আগে কখনো এভাবে নিখোঁজ হননি তিনি। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে সেসময় নাসিমা খান বলেছিলেন, “আমার ছেলের জন্য অন্তরটা পুড়ে যাচ্ছে। সে কোথায় আছে, কার কাছে আছে, কী খাচ্ছে? সে কি কারো কাছ থেকে চেয়ে খাচ্ছে? এগুলো ভেবে আমার হৃদয়টা ফেটে যাচ্ছে! কেউ আমার ছেলেটাকে খুঁজে এনে দাও!”
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রথম দিকের অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম নাসিমা খান। ১৯৫৯ সালে ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় তার অভিষেক ঘটে। পরে ১৯৬১ সালে ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে তিনি পরিচিতি পান। ষাটের দশক থেকে আশির দশক পর্যন্ত বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে জনপ্রিয়তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী। সর্বশেষ ২০১১ সালে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ সিনেমায় তাকে দেখা গিয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন