প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজ হওয়া সানজিদা (৯) নামের এক মাদরাসাছাত্রীর মরদেহ একদিন পর উদ্ধার হয়েছে পুলিশ কর্তৃক। শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর করানীপাড়া এলাকায় ডালিয়া ক্যানেলের পাশে একটি পাটক্ষেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সানজিদা ভীমপুর এলাকার সাইদুল ইসলামের মেয়ে এবং সে একটি স্থানীয় মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিল। পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে সে বাড়ির পাশে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল। কিন্তু কিছু সময় পর থেকেই তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে। পরে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হয়, কিন্তু তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শনিবার সকালে স্থানীয় কিছু কৃষক ও পথচারী ডালিয়া ক্যানেলের পাশের একটি পাটক্ষেতে শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে মরদেহটি সানজিদার বলে শনাক্ত করেন।
তারাগঞ্জ থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এদিকে মরদেহ উদ্ধারের খবর এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে শতশত মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের মতে, সানজিদা অত্যন্ত শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের শিশু ছিল। তার এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকা শোকসন্তপ্ত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল ছাত্তার বলেছেন, ‘গতকাল বিকেল থেকে মেয়েটিকে খুঁজছিল পরিবার। আমরাও খোঁজাখুঁজিতে অংশ নিয়েছিলাম। সকালে পাটক্ষেতে তার মরদেহ পাওয়ার খবর শুনে হতবাক হয়ে যাই।’ আরেক বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেছেন, ‘ছোট্ট মেয়েটি সবার আদরের ছিল। তার মৃত্যুতে পুরো গ্রাম শোকে স্তব্ধ। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানাই।’
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানিয়েছেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন