প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
তথ্য অধিদপ্তর তামাক নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করবে।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং তামাকজনিত ক্ষয়ক্ষতি রোধে বহুমুখী সচেতনতামূলক প্রচারণা পরিচালনা করবে তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি)। পাশাপাশি, ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫’-এর ২০২৬ সালের সংশোধনী বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) পিআইডির সভাকক্ষে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন ২০২৬ বাস্তবায়নে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব বিষয় তুলে ধরেন।
তথ্য অধিদপ্তর এবং মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস) যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করেছে। সভায় প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদের সভাপতিত্বে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম বলেন, বর্তমানে তামাক নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম চলছে, এবং পর্যায়ক্রমে তামাক নির্মূলের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিভিন্ন বিষয়বস্তুর মধ্যে তামাক নিয়ন্ত্রণ অনেক সময় কম গুরুত্ব পায়।
তবে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
তিনি উল্লেখ করেন, ভুটানসহ অনেক দেশ মানুষের সুখ এবং ভালো থাকার জন্য কাজ করছে। তামাক ও মাদকের মতো নেতিবাচক দ্রব্য পরিহার এবং কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশকেও এ বিষয়ে কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।
প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, অতীতে তামাকবিরোধী জনসচেতনতা তৈরিতে সরকারি এবং বেসরকারি সমন্বয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এর ফলে তামাক নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
তিনি আরও বলেন, তথ্য অধিদপ্তরের প্রায় ৩০০ জন তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা রয়েছেন। তারা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় দায়িত্ব পালনকালে তারা তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।
প্রধান আলোচক মানসের সভাপতি অধ্যাপক ডা. অরূপরতন চৌধুরী বলেন, চলচ্চিত্র, নাটক, ওটিটি এবং ডিজিটাল কনটেন্টে তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার ও প্রদর্শন তরুণদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ বিষয়ে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
তিনি সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য একটি নীতিমালা দ্রুত পাস এবং কার্যকর করার আহ্বান জানান।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার আমিনুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেন, তামাক কোম্পানিগুলোর প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ প্ররোচনা তামাকের ব্যবহার কমানোর উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করছে। এর ফলে কিশোর এবং তরুণরা তামাক ও মাদকের নেশার ঝুঁকিতে পড়ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের প্রলোভন থেকে রক্ষা করতে আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বিশেষ করে চলচ্চিত্র, নাটক এবং ওয়েব সিরিজে ধূমপানের মতো নেতিবাচক দৃশ্য প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আইন এবং নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মানসের সিনিয়র প্রজেক্ট অ্যান্ড কমিউনিকেশন অফিসার মো. আবু রায়হানের সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তৃতা করেন ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের ম্যানেজার (তামাক নিয়ন্ত্রণ) ফাহমিদা ইসলাম, প্রত্যাশা মাদকবিরোধী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ, বিইআর-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প পরিচালক হামিদুল ইসলাম হিল্লোল, টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চ সেলের প্রকল্প সমন্বয়কারী ফারহানা জামান লিজা এবং ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা সামিউল হাসান সজীব।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন