প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় কীটনাশক চুরির অভিযোগে এক যুবককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, ওই যুবকের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করার কথাও বলা হচ্ছে।
বুধবার (১৭ জুন) উপজেলার বিল্লী বাজারে এ ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামনাথপুর গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে রুবেল একসময় একটি কীটনাশক কোম্পানির কর্মচারী ছিলেন। চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে তিনি বিল্লী বাজারে মেসার্স মারিয়া ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মাহবুবুল আলমের দোকানে নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, বুধবার বিল্লী হাটের দিন রুবেল ঐ দোকানে বসেছিলেন। পরে বাজার শেষে বাড়ি ফেরার সময় তার ব্যাগ তল্লাশি করে প্রায় ১২ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন কীটনাশক উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রুবেলকে চুরির অভিযোগে আটক করা হয় এবং তাকে একটি ঘরে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, সেখানে রুবেলের উপর মারধর করা হয় এবং জোরপূর্বক চুরির স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়। এরপর ৫ লাখ টাকা জরিমানা নির্ধারণ করে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, চুরি যদি ফৌজদারি অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে না দিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ ও জরিমানা করা কতটা আইনসঙ্গত। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রুবেলের এক স্বজন বলেন, রুবেলের সঙ্গে যা হয়েছে তা অন্যায় ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। তাকে মারধর করা হয়েছে এবং জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে। সেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে রুবেল ও তার পরিবার সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হয়েছে।
তবে অভিযোগ স্বীকার করে মেসার্স মারিয়া ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মাহবুবুল আলম বলেন, রুবেল দীর্ঘদিন ধরে আমার দোকান থেকে চুরি করে আসছিল। আমি অনেক কষ্টে তাকে হাতেনাতে ধরেছি। কোনো মব সৃষ্টি হয়নি। উত্তেজিত জনতা ক্ষোভের বশে দু-একটি কিল-ঘুষি মারতে পারে। রুবেলের অনুরোধেই তাকে থানায় না দিয়ে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রুবেল বলেন, যা হওয়ার হয়েছে। আমি বিষয়টি নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করতে চাই না।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন