প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অ্যাপলের নতুন আইফোন ১৮ নিয়ে জল্পনা কল্পনার শেষ নেই। এই জল্পনা প্রযুক্তি সাইডে লিক হওয়া ফিচারগুলোতে আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবার জানা যাচ্ছে, স্মার্টফোন ফটোগ্রাফিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে অ্যাপল।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আগামী প্রজন্মের আইফোন ১৮ প্রো এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স মডেলে একটি নতুন ধরনের ক্যামেরা প্রযুক্তি যুক্ত হতে পারে, যা এতদিন মূলত পেশাদার ক্যামেরায় পাওয়া যেত। ফলে ছবি ও ভিডিও ধারণের অভিজ্ঞতায় বড় একটি পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমান আইফোনগুলোর ক্যামেরায় ব্যবহৃত অ্যাপারচার যখন নির্দিষ্ট, তখন ভবিষ্যতের প্রো মডেলগুলোতে ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ব্যবস্থায় ক্যামেরা আশপাশের আলো ও পরিবেশ অনুযায়ী লেন্সের খোলার আকার পরিবর্তন করতে সক্ষম হবে।
এর ফলে উজ্জ্বল আলো কিংবা অল্প আলোর পরিবেশ দুই ক্ষেত্রেই ক্যামেরা আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে। বিশেষ করে রাতের ছবি, পোর্ট্রেট শট এবং ভিডিও রেকর্ডিংয়ে ব্যবহারকারীরা আরও উন্নত ফলাফল পেতে পারেন।
ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার দীর্ঘকাল ধরে ডিএসএলআর ও মিররলেস ক্যামেরার জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফিচার। এটি ব্যবহারকারীদের ছবির গভীরতা, এক্সপোজার এবং আলোর পরিমাণের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেয়। স্মার্টফোনে এই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ালে কম আলোতে আরও পরিষ্কার ছবি তোলার সম্ভবনা বেড়ে যাবে। পাশাপাশি পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফিতে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার বা বোকেহ ইফেক্ট আরও স্বাভাবিক ও বাস্তবসম্মত হতে পারে।
নতুন ক্যামেরা মডিউল তৈরিতে উন্নতমানের লেন্স ও যন্ত্রাংশ ব্যবহারের কারণে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ান হতে পারে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, নতুন ক্যামেরা ইউনিটের খরচ বর্তমান প্রজন্মের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে। ফলে অ্যাপলের জন্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যদিও প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করে আসছে, তবুও ব্যয় বৃদ্ধি ভবিষ্যতের মূল্য নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, অতিরিক্ত উৎপাদন খরচের একটি অংশ অ্যাপল নিজে বহন করতে পারে। তবে সবকিছু বিবেচনা করলে প্রো সিরিজের ডিভাইসগুলোর দাম কিছুটা বাড়ানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে যারা সর্বাধুনিক ক্যামেরা প্রযুক্তি ও প্রিমিয়াম ফিচার চান, তাদের জন্য প্রো ম্যাক্স সংস্করণটি আরও ব্যয়বহুল হতে পারে।
শুধুমাত্র আইফোন ১৮ সিরিজ নয়, ভবিষ্যতের আইফোন নিয়েও অ্যাপল বড় পরিকল্পনা করছে। শিল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরে কোম্পানি আরও পাতলা এবং উন্নত ক্যামেরা মডিউল তৈরির দিকে এগোচ্ছে। নতুন ধরনের ক্যামেরা প্যাকেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিভাইসের ভেতরের জায়গা আরও দক্ষভাবে কাজে লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতের আইফোনগুলোতে বড় ব্যাটারি, উন্নত সেন্সর কিংবা নতুন হার্ডওয়্যার ফিচার সংযোজনের জন্য অতিরিক্ত জায়গা পাওয়া যেতে পারে।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আইফোন ১৮ প্রো বা আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স সম্পর্কে অ্যাপল এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি। বর্তমানে প্রকাশিত সব তথ্যই বিভিন্ন শিল্প বিশ্লেষক ও সরবরাহ শৃঙ্খল-সংশ্লিষ্ট সূত্রের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত।
যদি তথ্যগুলো সত্যি হয়, তাহলে আইফোন ১৮ প্রো সিরিজ হতে পারে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় ক্যামেরা আপগ্রেড পাওয়া আইফোনগুলোর একটি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন