প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকারের মানবিক ও ব্যতিক্রমী পদক্ষেপের ফলে ভেঙে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেল একটি পরিবার। ইউএনও’র মধ্যস্থতায় স্বামী-স্ত্রীর দীর্ঘদিনের ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটার পর দম্পতির মুখে আবার ফুটেছে হাসির ঝিলিক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুলিয়ারচর পৌরশহরের নোয়াগাঁও বেপারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা সানাউল্লাহ মিয়ার সাথে তাঁর স্ত্রী জুলেখা আক্তারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে স্ত্রী জুলেখা বিচার ও প্রতিকার চেয়ে ইউএনও’র শরণাপন্ন হন। বিষয়টির সংবেদনশীলতা অনুধাবন করে ইউএনও মো. ইয়াসিন খন্দকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দম্পতিকে তাঁকেইকার্যালয়ে ডেকে পাঠান।
সোমবার (২০) জুলাই দুপুরের দিকে উপজেলা কার্যালয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য ইউএনও অত্যন্ত ধৈর্য ও আন্তরিকতার সাথে শোনেন। পরবর্তীতে সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ তুলে ধরে আলোচনার মাধ্যমে তিনি উভয়ের মাঝে মান-অভিমান ও ভুল বোঝাবুঝি দূর করেন। প্রশাসনের এই আন্তরিক প্রচেষ্টায় সানাউল্লাহ ও জুলেখা অতীত ভুলে পুনরায় এক ছাদের নিচে সংসার শুরু করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সংকটের ইতি টেনে, শুধু জোড়াতালি নয়, এই স্মরণীয় মুহূর্তকে আরও আনন্দময় করতে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করা এই দম্পতির হাতে বিশেষ উপহারও তুলে দেন ইউএনও মো. ইয়াসিন খন্দকার।
পুনর্মিলনের এই সময়টিতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা সুলতানা, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহ আলম, কুলিয়ারচর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আজহার উদ্দিন লিটন, সাংবাদিক মো. নাঈমুজ্জামান নাঈম, আলী হায়দার ও মো. সবুজ মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
স্থানীয় সচেতন মহল এই মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে জানান, আদালতের দীর্ঘসূত্রতা ও সামাজিক টানাপোড়েন এড়িয়ে প্রশাসনিক এমন মানবিক হস্তক্ষেপে একটি পুরো পরিবার ধ্বংসের হাত থেকে বেঁচে গেল। তারা মনে মনে আশা করেন, এ ঘটনা সমাজে পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় রাখতে ইতিবাচক বার্তা দেবে।
প্রশাসনের এই অনন্য ভূমিকা সম্পর্কে ইউএনও মো. ইয়াসিন খন্দকার জানান, আন্তরিকতা, ধৈর্য ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে যেকোনো পারিবারিক বিরোধ আলোচনা মাধ্যমে মেটানো সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, জনবান্ধব ও মানবিক প্রশাসন গড়ে তুলতে স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে এ ধরনের সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন