প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপদাহের মধ্যে দক্ষিণ স্পেনের আন্দালুসিয়া অঞ্চলের আলমেরিয়া প্রদেশে একটি ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনের কারণে ৩ হাজার ৮০০ হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, অনেকেই যখন আগুন থেকে বাঁচতে গাড়িতে করে পালানোর চেষ্টা করেন, তখন শিখার মধ্যে আটকে গিয়ে নিহত হন। এ ভয়াবহ ঘটনায় অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন এবং ২৩ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
দাবানল নিয়ন্ত্রণে দমকলকর্মীরা নিরলসভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে খাড়া পাহাড়ি এলাকা, তীব্র গরম ও প্রবল বাতাসের কারণে আগুনের বিস্তার দ্রুত ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আগুনের ফলে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়াও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। ২০২৪ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দাবানলজনিত দূষণের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ১৫ লাখ ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। গত বছরের আইবেরীয় উপদ্বীপের ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়ার কারণেও প্রায় ২ হাজার মানুষের অকালমৃত্যু হওয়ার খবর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে ধারণা করা হচ্ছে, ছিঁড়ে পড়া একটি বিদ্যুৎ লাইনের স্পার্ক থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। গত শীত ও বসন্তে যথেষ্ট বৃষ্টিপাত হওয়ার ফলে জন্ম নেওয়া গাছপালা এবং ঝোপঝাড় গ্রীষ্মের তীব্রতায় শুকিয়ে দাহ্য জ্বালানিতে পরিণত হয়। এর ফলে প্রবল বাতাস এবং দীর্ঘস্থায়ী তাপদাহের সঙ্গে মিলে আগুন দ্রুত বিস্তার লাভ করে।
ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ফায়ার সায়েন্টিস্ট গুইলারমো রেইন বলেন, আলমেরিয়ার দাবানলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার সব উপাদান একসঙ্গে উপস্থিত ছিল। অত্যন্ত শুকনো উদ্ভিদ, প্রবল বাতাস, আগুনের সূত্রপাত, এবং প্রস্তুতিহীন জনবসতি একত্রিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে সহায়তা করেছে।
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন যে সিয়েরা দে বেদার এলাকার খাড়া পাহাড়ি ঢালও আগুনের দ্রুত বিস্তারের গুরুত্বপূর্ণ কারণ। কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকার পর এবার তা প্রায় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড ফুড রিসার্চের সিনিয়র বিজ্ঞানী গুস্তাভো সাইজ বলেছেন, গ্রীষ্মকালে কয়েক সপ্তাহ বৃষ্টি না হলেই সেই অঞ্চলের শুকনো উদ্ভিদ অত্যন্ত দাহ্য হয়ে যায়।
ইউরোপিয়ান ফরেস্ট ফায়ার ইনফরমেশন সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসের মধ্যে এটি তৃতীয় তাপপ্রবাহ। এ বছরের দাবানল ইতোমধ্যে স্পেনের ইতিহাসে অন্যতম প্রাণঘাতী ঘটনায় পরিণত হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ এলাকা পুড়েছে এবং দাবানলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকা জনশূন্য হওয়ার প্রভাবও বড় একটি কারণ। তরুণরা শহরমুখী হওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকায় আগাছা ও ঝোপঝাড় বেড়ে গিয়ে দাহ্য জ্বালানির স্তর সৃষ্টি করেছে। ইউনিভার্সিটি অব ভিগোর বন অগ্নিকাণ্ড বিশেষজ্ঞ হুয়ান পিকোস বলেন, আগুন প্রতিরোধের পরিবর্তে কেবল আগুন নেভানোর ওপর নির্ভরশীল নীতি ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন