প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে ইসরায়েল কী অর্জন করেছে, সেটি নিয়ে ইসরায়েলের ভেতরেই এখন প্রশ্ন উঠছে। নতুন একটি জরিপে উন্মোচিত হয়েছে দেশের জনগণের মধ্যে হতাশা এবং অসন্তোষের চিত্র।
জরিপ অনুযায়ী, ৯২ শতাংশ ইসরায়েলি মনে করেন যে এই যুদ্ধে ইরানই বিজয়ী হয়ে উঠেছে। এর সাথে অধিকাংশ মানুষের বিশ্বাস হচ্ছে যে যুদ্ধটি ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাকে দুর্বল করেছে এবং সরকারের ঘোষিত লক্ষ্যও আদ্যপান্ত পূরণ হয়নি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যখন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন বাহিনীকে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করেন, তখন লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট। এই অভিযানের আওতায় ছিল তেহরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কর্মসূচি ধ্বংস করা এবং ইরানের সরকারকে কঠোর বিপর্যয়ের মুখে ফেললে।
তবে এখন পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে, কারণ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তির আলোচনা চলছে, যা সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি ইসরায়েলের অভ্যন্তরে যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো করেছে।
হিব্রু ইউনিভার্সিটি অব জেরুজালেমের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, ৮৩ শতাংশ ইসরায়েলি মনে করেন যে এই সামরিক অভিযান দেশটির দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাকে দুর্বল করেছে। এদিকে ৮৬ শতাংশ মানুষ যুদ্ধের মোট ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মত হচ্ছে, এই জনমত ইসরায়েলের রাজনৈতিক এবং সামরিক নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগের প্রতিফলন। তাদের অনেকেই বিবেচনা করছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের এই ফলাফল মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের আঞ্চলিক প্রভাবকে কমিয়ে দিতে পারে।
জরিপে আরও দেখা গেছে, ৭২ দশমিক ৫ শতাংশ ইসরায়েলি নেতানিয়াহুর সাফল্যের দাবিকে অস্বীকার করেছেন। নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ইসরায়েল এই যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে এবং দেশের অস্তিত্বগত সংকট দূর হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রায় ৮৮ শতাংশ উত্তরদাতার মতে, ইসরায়েল তার ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে পূর্ণমাত্রায় ব্যর্থ হয়েছে অথবা কেবল আংশিক সফল হয়েছে। ৫৬ শতাংশ মানুষের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনায় নেতানিয়াহুর ভূমিকা দুর্বল ছিল।
যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পক্ষে জনসমর্থন খুব বেশি দেখা যাচ্ছেনা। বিষয়টি এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরান তার পক্ষে বলেছে যে, ইসরায়েল যতদিন লেবাননে হামলা চালাবে এবং দক্ষিণ লেবাননের ভেতরে সেনা মোতায়েন রাখবে, ততদিন স্থায়ী যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়।
অন্যদিকে, জরিপ অনুযায়ী, ৪৮ শতাংশ ইসরায়েলি লেবাননে চলমান সামরিক অভিযানকে সমর্থন করছেন। ইসরায়েলের দাবি হচ্ছে, ইরান-সমর্থিত রাজনৈতিক ও সামরিক সংগঠন হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করেই এসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এমনকি এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হলেও অনেকে সমর্থন অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন।
গত ১৭ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত হিব্রু ইউনিভার্সিটি অব জেরুজালেমের সহযোগিতায় ‘আগাম ইনস্টিটিউট’ এই জরিপ পরিচালনা করে। এতে ১৭ বছর বা তার বেশি বয়সী তিন হাজার ৬৪৪ জন ইসরায়েলি নাগরিক অংশগ্রহণ করেন। জরিপ পরিচালনাকারীদের মত অনুযায়ী, ৯৯ শতাংশ আত্মবিশ্বাসের স্তরে এই জরিপের সম্ভাব্য ত্রুটির মাত্রা ছিল ২ দশমিক ২ শতাংশ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন