প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মোহসেন রেজায়ি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি কট্টরপন্থি নেতা হিসেবে পরিচিত। রেজায়ি দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ মিত্র। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পাঁচ মাসের বেশি সময় পর গুরুত্বপূর্ণ এই নিরাপত্তা পদে রেজায়িকে নিয়োগ দেয়া হলো।
মোহাম্মদ বাঘের জোলকাদর পদত্যাগ করার পর রেজায়ি এই পদে দায়িত্ব পেয়েছেন। এসএনএসসি ইরানের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি সমন্বয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এর নেতৃত্বে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। জোলকাদরকে মোজতবা খামেনির রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
মোহসেন রেজায়ি ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পরপরই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসে (আইআরজিসি) যোগ দেন। মাত্র ২৭ বছর বয়সে ১৯৮১ সালে তিনি আইআরজিসির কমান্ডার হন। টানা ১৬ বছর বাহিনীটির নেতৃত্ব দেন তিনি। এর মধ্যে ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়ও তিনি আইআরজিসির কমান্ডার ছিলেন।
রেজায়ির নেতৃত্বে আইআরজিসির স্থল, নৌ ও বিমান সক্ষমতা সম্প্রসারিত হয়েছে। বিপ্লবের সময় গোপন সংগঠন ও আন্দোলন থেকে উঠে আসা আইআরজিসির যে প্রজন্ম পরবর্তী সময়ে ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোর শীর্ষে উঠে আসে, রেজায়ি তাদের অন্যতম।
আইআরজিসির কমান্ডার পদ ছাড়ার পরও রেজায়ি দেশটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। তিনি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একাধিকবার প্রার্থী হয়েছেন। ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত কট্টরপন্থি প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির সরকারের অর্থনৈতিক বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি করেছেন রেজায়ি।
গত মার্চ মাসে মোজতবা খামেনি সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর রেজায়িকে তার সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন। যুদ্ধ চলাকালে বিভিন্ন বিষয়ে রেজায়ি নিয়মিত প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ব্যাপারে তিনি গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকিও দিয়েছেন।
এপ্রিল মাসে রেজায়ি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল অভিযান চালালে সেটি ‘দারুণ’ হবে। কারণ, তখন ইরান হাজারো মার্কিন নাগরিককে জিম্মি করতে পারবে এবং প্রত্যেক জিম্মির বিনিময়ে এক বিলিয়ন ডলার দাবি করা সম্ভব হবে।
এই সময় তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আমি কোনোভাবেই যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর পক্ষে নই। এটি আমার ব্যক্তিগত মত।’ যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ১৭ জুন ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করার আগে রেজায়ি বলেছিলেন, চুক্তিটিতে কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে, যেগুলো পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ২৭ জুন তিনি হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা সৃষ্টি করে যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করেন।
মোজতবা খামেনির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টিও নতুন নিয়োগে স্পষ্ট হয়েছে। রোববার এক ডিক্রিতে সর্বোচ্চ নেতা রেজায়িকে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে নিজের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেন। দীর্ঘ সামরিক জীবনের অভিজ্ঞতাসহ রেজায়ির ‘মূল্যবান অভিজ্ঞতার’ কথা উল্লেখ করে তাকে নিয়োগ দেন খামেনি।
কিশোর বয়স থেকেই ইরানের পাহলভি রাজতন্ত্রের বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন রেজায়ি। ১৯৭৯ সালে রাজতন্ত্র উৎখাতের আগে ১৯৭৩ সালে শাহ সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা সাভাকের হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাবন্দি হন রেজায়ি।
১৯৭০-এর দশকে রাজতন্ত্রবিরোধী সশস্ত্র সংগঠন মানসুরুন প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে ভূমিকা রাখেন রেজায়ি। পরে ওই সংগঠনের কারাবন্দি সদস্যদের কয়েকজনই আইআরজিসির শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসেন।
ইরান-ইরাক যুদ্ধে রেজায়ির ভূমিকা নিয়ে দেশটির ভেতরে বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকেরা এমন কয়েকটি ব্যয়বহুল সামরিক অভিযানে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যেগুলোতে বিপুলসংখ্যক ইরানি সেনা নিহত হন।
এর মধ্যে ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরের অপারেশন কারবালা-৪ অন্যতম। ইরাকি প্রতিরক্ষা ভেদ করে বসরার দিকে অগ্রসর হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে চালানো এই অভিযানে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে।
২০১৮ সালে রেজায়ি এক টুইটে দাবি করেন, কারবালা-৪ অভিযানটি মূলত শত্রুকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছিল, যাতে পরবর্তী কারবালা-৫ অভিযানের পথ তৈরি হয়। পরে তিনি ব্যাখ্যা দেন, কারবালা-৪ শুরুতে সত্যিকারের সামরিক অভিযান হিসেবেই পরিকল্পিত ছিল; তবে ব্যর্থ হওয়ার পর এর ফলাফলকে কারবালা-৫-এর আগে শত্রুকে বিভ্রান্ত করতে ব্যবহার করা হয়। তার ওই মন্তব্যে যুদ্ধের সাবেক সেনা, নিহতদের স্বজন এবং দেশটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা সমালোচনা করেন।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন