প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিউবার সরকার ভিসা ও মাস্টারকার্ডের মাধ্যমে সব ধরনের লেনদেন বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে যে, ৬ জুন থেকে এই দুই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আরো কোনো লেনদেন করা সম্ভব হবে না।
হাভানা জানিয়েছে যে, ওয়াশিংটনের কঠোর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার কারণে কিউবার সঙ্গে কাজ করা একটি বিদেশি আর্থিক অংশীদার তাদের কার্যক্রম সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ফলস্বরূপ আগামী ৬ জুন থেকে কিউবায় ভিসা ও মাস্টারকার্ডের মাধ্যমে লেনদেন চালানোর সুযোগ নেই। বুধবার স্থানীয় সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ঘোষণা দেয়। সাম্প্রতিক মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে একাধিক বিদেশি প্রতিষ্ঠান কিউবার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, আগে একটি বিদেশি অংশীদার প্রতিষ্ঠান কিউবার ক্রেডিট কার্ড লেনদেন প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা করছিল। কিন্তু ১ মে জারি করা মার্কিন নির্বাহী আদেশের পর তারা কার্যক্রম সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কিউবার সঙ্গে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।
কিউবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি বিবৃতিতে বলেছে যে, এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে কিউবা আর ভিসা ও মাস্টারকার্ডসহ আন্তর্জাতিক স্বীকৃত কার্ডের মাধ্যমে পণ্য ও সেবা বিক্রির আয় গ্রহণ করতে পারবে না।
বিশ্লেষকদের অনুমান, এই সিদ্ধান্ত কিউবার অর্থনীতির জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে এসেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার কমিউনিস্ট সরকারকে চাপে ফেলতে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করেছে, যার ফলস্বরূপ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এটি এমন একটি সময়ে হচ্ছে, যখন কিউবার পর্যটন খাত পূর্বেই বড় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
রয়টার্স জানাচ্ছে, ঐতিহাসিকভাবে কিউবার ক্রেডিট কার্ড লেনদেন একটি বিদেশি ব্যাংক এবং ফিনসিমেক্স এসএ পরিচালনা করত। এটি সামরিক নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়িক গোষ্ঠী জিএইএসএর আর্থিক শাখা। ট্রাম্প প্রশাসন জিএইএসএ’র ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, জিএইএসএ দেশের সবচেয়ে লাভজনক খাতগুলি থেকে আসা মুনাফাকে গোপনে নিয়ন্ত্রিত করে এবং তা সামরিক বাহিনী ও কিউবার অভিজাত গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহার করে।
তবে কিউবা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং দাবি করছে যে, জিএইএসএ দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রেখে চলছে।
কিউবার এই দাবি সত্ত্বেও, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের পর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একের পর এক বিদেশি প্রতিষ্ঠান কিউবার বাজার থেকে সরে গেছে, এর মধ্যে বিদেশি হোটেল প্রতিষ্ঠান, বিমান সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি রয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা কিউবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক এড়িয়ে চলতে বিনিয়োগকারীরা দুরত্ব তৈরি করছেন। তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও, ভিসা ও মাস্টারকার্ড তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন