প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন, যেখানে তিনি জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জুতাপেটা করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
আক্কেলপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে শনিবার (২৭ জুন) বেলা ১১টার দিকে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হারুনুর রশিদ।
এর আগে, শুক্রবার (২৬ জুন) একই স্থানে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার রোয়াইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান অভিযোগ করেন যে, ২১ জুন দুপুর আড়াইটার দিকে হারুনুর রশিদ, স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহনেওয়াজ, আতিয়ার রহমান এবং গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা মীর মো. আতিকুজ্জামান মুন বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে প্রবেশ করে। তারা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনের কাগজপত্র দেখতে চান এবং নির্বাচিত সদস্যদের তালিকা পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। আপত্তি জানালে হারুনুর রশিদ জুতা খুলে প্রধান শিক্ষকের গালে আঘাত করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেন।
প্রধান শিক্ষক এই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর শুক্রবারই রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন বিএনপি হারুনুর রশিদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় এবং বিষয়টি তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে।
পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে হারুনুর রশিদ দাবি করেন, বিদ্যালয়ের নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠনের সময় প্রধান শিক্ষক ঘুষের বিনিময়ে প্রস্তাবিত দুজন বিদ্যোৎসাহী সদস্যের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন এবং যুবলীগ নেতা আতিকুর রহমানের নাম সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করেন। বিষয়টি অভিভাবকদের মাধ্যমে জানতে পেরে তিনি বিদ্যালয়ে যান। সেখানে বিদ্যোৎসাহী সদস্যদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক তাঁর সঙ্গে অশোভন আচরণ ও হুমকি দেন। পরে প্রধান শিক্ষক ও তাঁর ভাই তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। তবে তিনি জানান, তিনি প্রধান শিক্ষককে মারধর করেননি। একই ঘটনায় তিনিও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
হারুনুর রশিদ আরো জানান, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তাই স্থানীয় ব্যক্তি হিসেবে এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাঁকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তিনি আমার ছেলেরও শিক্ষক ছিলেন। তাঁকে মারধর করার প্রশ্নই আসে না।’
অন্যদিকে, আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন রেজা জানালেন, থানায় উভয় পক্ষ পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগ দুটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন