প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জামালপুরে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের প্রাঙ্গণে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়েছে একটি দল দুর্বৃত্ত। শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এদিন ভোর রাতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সংবাদ পেয়ে জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রাকিবুল ইসলাম এবং সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: নাজমুস সাকিব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের পাশে কিছু পোড়া কাপড় এবং ছাই পড়ে রয়েছে। তবে স্মৃতিস্তম্ভের মূল কাঠামোর বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখা যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার ‘আল-সাদিক হৃদয়’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি প্রচার করা হয়। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি একটি জ্বলন্ত কাপড় স্মৃতিস্তম্ভের দিকে নিক্ষেপ করছেন। এরপর সেখানে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
এছাড়া জানা গেছে, আল-সাদিক হৃদয় বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগে লেখা পড়া শেষে প্রায় চার মাস আগে স্ত্রীসহ মালয়েশিয়া পাড়ি জমান সাদিক। পড়াশুনার সময় তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগে (বর্তমানে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন) রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বাড়ি জামালপুর জেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নে হওয়ার কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত) এবং অঙ্গ সংগঠনের মিছিলে, সভা-সেমিনারে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন সাদিক।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী এবং পুলিশ।
জামালপুর জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আমিনুল ইহসান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা আগে থেকেই এমন ঘটনার আশঙ্কার কথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু এরপরও ভোর রাতে দুর্বৃত্তরা এসে স্মৃতি স্তম্ভে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। প্রতিবাদ হিসেবে আজ সন্ধ্যায় স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি পালন করা হবে।
এদিকে জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রাকিবুল ইসলাম বলেন, তদন্ত ছাড়া এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারব না।
কথা হলে জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: নাজমুস সাকিব জানান, তদন্ত চলছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন