প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুড়িগ্রামে গত তিনদিন ধরে মৃদু তাপপ্রবাহ বইছে। তাপপ্রবাহের কারণে দিনভর সূর্যের প্রখর রোদ ও প্রচন্ড গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। রাতেও প্রচন্ড গরম অনুভূত হচ্ছে। এর সাথে বিদ্যুতের লোড শেডিং সমস্যাও যুক্ত হয়েছে। ফলে গরমে শিশু, বৃদ্ধসহ মানুষজন পড়েছেন চরম বিপাকে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষগুলো প্রচন্ড রোদ ও গরমে কাজে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে এসব পরিবারে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
প্রতিদিন গরমের কারণে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ডায়রিয়া, জ্বর ও হিটস্ট্রোকসহ অন্যান্য নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছেন অনেকেই। গত দুদিন ধরে প্রখর রোদে রাস্তা ঘাট ফাঁকা ও খাঁ-খাঁ করছে। ঘর থেকে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না অনেকেই।
কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার খলিলগঞ্জ এলাকার রিক্সা চালক নেছার উদ্দিন জানান, হামরা গরিম মানুষ। কোনরকম অন্যের এসকা হাওলাত করি চালাই। যে গরম পড়চে বাচার বুদ্ধি নাই। এত গরম হইলেও প্যাটের দায়ে চালায় নাগে। অপরদিকে, ধরলা নদী পাড়ের কৃষক মইনুল ইসলাম জানান, এত গরম ও রোদে কাজ করতে মন না চাইলেও যেতে হয়। এখন আমন বীজতলা ঠিক করতে হচ্ছে। কদিন বাদে আমন লাগাতে হবে। অসহ্য গরমে বাইরে কষ্ট হলেও কাজ করতে হয়।
এদিকে, কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসমূহে প্রতিদিনই গরমের কারণে বাড়ছে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। ডায়রিয়া, জ্বর, হিটস্ট্রোক, আমাশয়সহ অনেক রোগে শিশু, বৃদ্ধ ও সাধারণ মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে আসছেন বলে হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়।
জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: নুরে নেয়াজ জানান, এখন অতিরিক্ত গরমের প্রভাব কুড়িগ্রামে পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে প্রচন্ড গরমে অনেকেই অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন। আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করছি।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, গত তিনদিন ধরে জেলায় তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বেড়েছে। গত শনিবার এ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা আজ সামান্য কমেছে। তবে আরো দুএকদিন তাপমাত্রা এরকম বাড়তি থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন