প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দমনের অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আক্রমণ আরো জোরালো হয়েছে। সরকারি সূত্রগুলো এ বিষয়ে দাবি করেছে যে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং বিষয়টি সমাধানে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাটি সামনে আসার পর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান নৈতিক দায় স্বীকার করেছেন। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনি একের পর এক সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নিতে শুরু করেন। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের জন্য বিরোধীদের দাবিকে সরকারের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে মন্তব্য করা হয়েছে। তাদের দাবি, এই দাবি বাস্তব সমস্যার সমাধানের জন্য নয়, বরং রাজনৈতিক চাপ তৈরির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিরোধীদলীয় নেতা সরকারের সামনে পাঁচটি দাবি তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের আহ্বান।
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার বিষয়ে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে সরকারি সূত্র জানায়, বর্তমানে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই) এ ঘটনার তদন্ত করছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের বেশি অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্ত সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভাবে পরিচালিত হবে এবং যারা দোষী প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সরকারি সূত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্বৃত্ত বক্তব্যের কথা উল্লেখ করেছে। প্রধানমন্ত্রী এই ঘটনাকে 'ঘোর পাপ' হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলেও জানানো হয়।
দিল্লির কেন্দ্রস্থলে নিট অনিয়ম নিয়ে বড় ধরনের বিক্ষোভের পর মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রকাশ্যে কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো 'ঘোর পাপ'-এর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, কেউ যেন দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলোর একসঙ্গে কাজ করার গুরুত্বের কথা বলেন। কারণ এটি কোনো রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়, এটি দেশের স্বার্থের বিষয়। প্রধানমন্ত্রী এনডিএর সংসদ সদস্যদের নির্দেশ করেছেন যে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আন্তরিকতা বজায় রাখতে হবে। বিশেষ করে তরুণদের আস্থা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারি সূত্রের মতে, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে শিক্ষার্থীদের প্রতি কোনো ধরনের অন্যায় করা যাবে না। তিনি আরো বলেছেন, শিক্ষার্থীদের ভুল পথে পরিচালিত করা সহজ হলেও তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা কঠিন।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বিরোধীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংসদে নিট ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনার জন্য সরকার প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু বিরোধীরা সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। মঙ্গলবার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন যে, সরকার শিক্ষার্থীদের সমস্যা গুরুত্ব দিচ্ছে না এবং তাদের ব্যবহার করছে। তিনি নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগ দাবি করেন।
নিট ইস্যুতে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিরোধীদের অবস্থান কর্মসূচির সময় দিল্লি পুলিশ রাহুল গান্ধীকে আটক করে। রাহুল গান্ধীর দাবি ছিল, সংসদে নিট ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সোমবারের বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়া উচিত। এদিকে নিট বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও মঙ্গলবার রাতে রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন যে, কংগ্রেস শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করছে। তিনি আরো লেখেন, সরকার যখন বিস্তারিত আলোচনার জন্য প্রস্তুত জানিয়েছে, তখন কংগ্রেস গণতান্ত্রিক আলোচনার বদলে রাজনৈতিক নাটকের পথ বেছে নিয়েছে। ধর্মেন্দ্র প্রধানের দাবি, কংগ্রেসের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান করা নয়, বরং রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়া এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন