প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে নদীতে পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ছবিটি রয়েছে আরটিভির কাছে।
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, সকাল ৯:৩৭ টার সময় প্রকাশিত খবর অনুসারে, তাজিরপুরের হাউসবোট ও একটি মালামালবাহী নৌকার মধ্যে ধাক্কা লাগার পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় নিহত হওয়া নৌশ্রমিকের নাম আমিন মিয়া (২৩) এবং গুরুতর আহত মাহফুজ মিয়া (২৮)। ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে কেবিটি প্রেজেন্টস নোটিলাস হাউসবোটের মালিকসহ ৯ জনকে আটক করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (৮ জুন) রাতে আনোয়ারপুর বাজার সংলগ্ন রক্তিনদীর পাড়ে। নিহত আমিন মিয়া কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের কলাপাড়া গ্রামের কালাম মিয়ার ছেলে এবং আহত মাহফুজ, আমিনের চাচা।
নিহত আমিনের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (৮ জুন) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে কেবিটি প্রেজেন্টস নোটিলাস হাউসবোট ও ভৈরব থেকে আসা একটি মালামালবাহী নৌকার মধ্যে ধাক্কা লাগে। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এক সময়, মালবাহী নৌকায় ঘুমিয়ে থাকা আমিন মিয়া চিৎকার-চেঁচামেচির আওয়াজ শুনে বের হয়ে আসেন, তখন তিনি অভিযোগ করছেন হাউসবোটের লোকজন তার ওপর হামলা চালায়। হামলার ফলে গুরুতর আহত হয়ে তিনি নদীতে পড়ে যান এবং এমনকি একই ঘটনায় তার চাচা মাহফুজ মিয়া ও গুরুতর আহত হন।
নিহতের বাবা কালাম মিয়া অভিযোগ করছেন, হাউসবোটের ১০ থেকে ১৫ জন লোক তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি দাবি করেছেন যে, তার ছেলেকে মারধর করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এরপর ঘটনাস্থলে হাউসবোট মালিকের নির্দেশে তাকে প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রেখে মিথ্যা স্বীকারোক্তি দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। মুক্তি পাওয়ার পরে তিনি তার ছেলেকে খোঁজেন, কিন্তু কোথাও পায়নি। পরে থানায় ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং মাহফুজ মিয়াকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তাহিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, একজন নৌশ্রমিক মারা যাওয়ার ঘটনায় নোটিলাস হাউসবোটের মালিক ফাহাদ বায়জিদ হিমুসহ ৯ জন স্টাফকে আটক করা হয়েছে। মামলার এজাহার তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি আরো জানিয়েছেন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি হয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন