প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেপালের ভোটেকোশি নদীর ভয়াবহ বন্যায় প্রাণ হারানো মানুষের মরদেহ স্রোতের তীব্রতায় বহু দূরে ভেসে গেছে। একের পর এক মরদেহ উদ্ধার হতে থাকায় সেগুলোর সংরক্ষণ ও পরিচয় শনাক্তকরণ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন চরম সমস্যায় পড়েছে।
বন্যার উৎপত্তিস্থল রসুয়া ও নুয়াকোট থেকে ভেসে আসা মরদেহগুলো বর্তমানে নুয়াকোট ছাড়াও চিতওয়ান, তনহুন, নবলপরাসীসহ বিভিন্ন জেলার ভাটি অঞ্চলে উদ্ধার করা হচ্ছে। নুয়াকোট, ধাদিং ও নবলপরাসী জেলার হাসপাতালের মর্গগুলো ইতিমধ্যে লাশ রাখার জন্য জায়গা ফুরিয়ে গেছে। ফলে কিছু মরদেহ পাশের জেলাগুলোতে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। পোখরা জেলার হাসপাতালগুলোও জানিয়েছে, বিভিন্ন জেলা থেকে লাগাতার লাশ আসতে থাকায় তাদের মর্গগুলো দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে।
চিতওয়ান জেলায় পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। সেখানে উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা স্থানীয় হাসপাতালগুলোর ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে চিতওয়ানের ভরতপুরে একটি অস্থায়ী মর্গ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। ভরতপুর মহানগরীর বিদ্যুৎ রোডের ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট’–এর একটি পরিত্যক্ত ভবনকে অস্থায়ী মর্গ হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার চিতওয়ানের চিফ ডিস্ট্রিক্ট অফিসার (সিডিও) গণেশ আরিয়ালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত চিতওয়ান অঞ্চলের ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদীর ফিশলিং থেকে গোলাঘাট পর্যন্ত অংশ থেকে ১৩৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান রয়েছে।
সিডিও গণেশ আরিয়াল জানান, চিতওয়ানের সব হাসপাতালের মর্গ মিলিয়ে একসঙ্গে ৩০ থেকে ৫০টি মরদেহ রাখার ক্ষমতা রয়েছে। সেই ধারণক্ষমতার ওপর ইতিমধ্যে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছে, তাই নতুন এই অস্থায়ী কেন্দ্রে প্রায় ২৫০টি লাশ রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যদি এই ধারণক্ষমতাও অতিক্রম করে, তবে অতিরিক্ত বিকল্প হিসেবে দেবঘাটের বৈদ্যুতিক শ্মশান ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভরতপুর মহানগর কর্তৃপক্ষ এই অস্থায়ী ভবনটি মেরামত ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে সাজানোর দায়িত্ব নিয়েছে। লাশগুলো যাতে পচে না যায়, সে জন্য ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) বসানো হচ্ছে এবং ড্রাই আইস ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। চিতওয়ানের বিভিন্ন শিল্প ও বণিক সমিতি এই জরুরি ড্রাই আইস সরবরাহের খরচ ও দায়িত্ব নিতে সম্মত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার যখন কর্মীরা ভরতপুরের পরিত্যক্ত ভবনটিকে অস্থায়ী মর্গে রূপান্তরের কাজ করছিলেন, তখন সেখানে নিখোঁজ স্বজনদের তথ্য জানার জন্য ভিড় জমান স্বজনেরা।
প্রচণ্ড গরমের মধ্যে তাঁবুর ছায়ায় বসে অপেক্ষা করছিলেন ইয়ামান বানু নামের এক নারী। বন্যার পর নুয়াকোটের ত্রিশূলী বাজারে তাঁর দাদি ও নানি নিখোঁজ হন। ইয়ামান জানান, তাঁর দাদি সাকলা ও নানি নাজাবুন নিশাকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।
একইভাবে নিখোঁজ রয়েছেন গোরখার পালুংটার এলাকার মায়া বানিয়া খাড়কা নামের এক নারী। তিনি গোসাইকুন্ডায় তীর্থযাত্রায় গিয়েছিলেন। চিতওয়ানের বিজয়নগরে বাসিন্দা তাঁর দুই ভাই কৃষ্ণ বাহাদুর ও হরি বানিয়া বোনের একটি ছবি হাতে নিয়ে ভরতপুরের এই অস্থায়ী কেন্দ্রে ছুটে এসেছেন।
অস্থায়ী এই মর্গে লাশ সংরক্ষণের পুরো প্রস্তুতি এখনো শেষ না হলেও সকাল থেকেই স্বজনদের আনাগোনা বাড়তে শুরু করেছে। নিখোঁজদের স্বজনেরা আশা করছেন, কেন্দ্রের কাজ দ্রুত শেষ হলে তাঁরা অন্তত নিশ্চিত হতে পারবেন যে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে তাঁদের প্রিয় কোনো মানুষ রয়েছেন কি না।
পুলিশ সুপার নবীন কার্কি বলেন, ‘আঙুলের ছাপ ও ডিএনএ নমুনা আগে থেকেই সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে। যদি কোনো লাশের স্বজনদের খুঁজে না পাওয়া যায় কিংবা পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না-ও হয়, তাহলে আমরা এগুলোকে মর্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য রেখে দিতে পারব না।’ -
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন