প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্পেনের তারকাখচিত আক্রমণভাগের সামনে এসে দাঁড়াল যেন একটি দুর্ভেদ্য প্রাচীর। একদিকে লা-ফুয়েন্তের শিষ্যদের পরিকল্পনা ছিল একের পর এক গোলবন্যা বইয়ে দেওয়ার, আর অন্যদিকে গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা ৪০ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ যোদ্ধা, ভোজিনিয়া। বিশ্বকাপের মঞ্চে স্পেনের মতো জায়ান্টদের বিপক্ষে কেপ ভার্দের এই গোলরক্ষকের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স সত্যিই ছিল রূপকথার গল্পের মতো।
ম্যাচের ৯০ মিনিট জুড়ে স্পেনের ফরোয়ার্ডরা বারবার থমকে যাচ্ছিলেন ভোজিনিয়ার গ্লাভসের কাছে। অন্তত সাতটি নিশ্চিত গোল তিনি বাঁচিয়ে রাখার মাধ্যমে শুধু দলের গোলপোস্টকে আগলে রাখেননি, বরং নিজের স্নায়ুচাপ এবং অবিশ্বাস্য পজিশনিংয়ের জাদু দেখিয়ে ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দেন।
ম্যাচের এক পর্যায়ে স্প্যানিশ কোচ মরিয়া হয়ে তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামালকে মাঠে নামালেন। কিন্তু ১৮ বছর বয়সী এই বিস্ময় বালকও ভোজিনিয়ার অভিজ্ঞতার সামনে অসহায় ছিলেন। এই দুই খেলোয়াড়ের বয়সের ব্যবধান যদিও ২১ বছরেরও বেশি। তবে মজার ব্যাপার হলো, ভোজিনিয়ার বয়স ইয়ামালের বাবার বয়সের চেয়েও দুই বছর বেশি। ৪০ বছর ২২ দিন বয়সী এই গোলরক্ষক যেন সময়কে পিছনে নিয়ে গিয়েছিলেন। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপে চল্লিশোর্ধ্ব কোনো গোলরক্ষকের এমন অসাধারণ বীরত্ব দেখা যায়নি।
শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই ভোজিনিয়া কান্নায় ভেঙে পড়লেন। হাঁটু গেড়ে বসে থাকার মুহূর্তে তার চোখের জলে ছিল লড়াইয়ের ক্লান্তি এবং সাফল্যের আনন্দ।
গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো দর্শক শুধু একজন ফুটবলারকে দেখেননি, বরং দেখেছেন অদম্য ইচ্ছাশক্তির একটি প্রতিচ্ছবি। আর মাঠের বাইরে? ম্যাচ শুরুর আগে যার ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার ছিল পঞ্চাশ হাজারের নিচে, ম্যাচ শেষের ৯০ মিনিটে তার নামের পাশে যুক্ত হলো মিলিয়ন ফলোয়ারের মাইলফলক। একটি ম্যাচের অসাধারণ পারফরম্যান্স দিয়েই তিনি রাতারাতি বিশ্ব ফুটবলের নতুন মহাতারকা হয়ে উঠলেন ভোজিনিয়া।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন