প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভিসি চত্বরে গত ৫ অক্টোবর পালি ও বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম তারেককে মারধর করেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহফুজ সৌরভ।
এ ঘটনার মীমাংসার উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হল ও সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংঘর্ষটি সংঘটিত হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত চারজন আহত হন।
আহতদের মধ্যে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাহরিয়ার লিওন, সূর্যসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী রমজান আলী, হল শাখার সদস্য সাইফ আলী শিথিল, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাহফুজ সৌরভ এবং পালি ও বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম তারেক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
ঘটনার পর রমজান আলী অচেতন হয়ে পড়লে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সংঘর্ষে আহত অন্যদের ওই রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সূত্রে জানা গেছে, সূর্যসেন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আরিফুল ইসলাম তারেককে সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মাহফুজ সৌরভের সঙ্গে ৫ অক্টোবর সংঘর্ষের ঘটনার মীমাংসার জন্য ছাত্রদলের দুটি গ্রুপ এবং তারেকের বন্ধুরা একত্রিত হন। মীমাংসার প্রক্রিয়ায় কথোপকথন থেকে সংঘর্ষের সূচনা ঘটে।
তারেক জানান, সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সৌরভ মোটরসাইকেল চালিয়ে তাকে প্রায় ধাক্কা দিতে যাচ্ছিলেন। প্রতিবাদ জানালে সৌরভ তাকে কয়েকবার চড় মারেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রতিবেদন আকারে প্রকাশিত হয়।
পরবর্তীতে মঙ্গলবার তারেক ও তার কয়েকজন বন্ধু সৌরভকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে সৌরভ ভয়ে মোটরসাইকেলটি রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়। পরে মোটরসাইকেলটি সূর্যসেন হলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানান আবাসিক শিক্ষার্থী ফাইম শাহরিয়ার সাজিব।
বিরোধ মীমাংসার জন্য তারেকের বন্ধুরা, সাধারণ শিক্ষার্থীরা এবং সূর্যসেন হল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ছাত্রদলের সদস্যসচিব লিওনসহ কয়েকজন সৌরভের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।
ফাইম শাহরিয়ার সাজিব অভিযোগ করেন, বৈঠকের সময় লিওন তাকে মারধর করেন এবং সংঘর্ষের উসকানি দেন। তিনি বলেন, ‘মীমাংসার সময় জহুরুল হক হল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা লাঠি নিয়ে এসে আমাদের মারধর করেন।’
অন্যদিকে, লিওন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আগের বিরোধের কারণে তারেক ও তার বন্ধুরা সৌরভকে মারধর করতে গিয়েছিলেন। পরে তিনি বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন এবং মল চত্বরে বৈঠকের আয়োজন করেন। তার দাবি, ‘সৌরভ ক্ষমা চাওয়ার পরপরই তারা হঠাৎ আমাদের মারধর শুরু করে।’
সৌরভ জানান, তারেকের লোকজন তার মোটরসাইকেল ‘ছিনিয়ে নিয়ে’ সেটি ফেরত দেওয়ার জন্য টাকা দাবি করেন। তবে সোমবারের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন এবং পরে আর ফোন ধরেননি।
এদিকে মারধরের ঘটনার পর প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বুধবার দিবাগত রাতেই শাহবাগ থানায় তারেক ও তার বন্ধুদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ছাত্রদলের সদস্যসচিব লিওন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন