প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফরিদপুরের ঘটনাটির পর এবার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে একটি নতুন মৃত্যু ঘিরে আলোচনা বেড়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক নেতার, নুরুল আলম (৪৫) মারা গেছেন, যিনি সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
তাঁকে মঙ্গলবার (২৩ জুন) গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন বুধবার (২৪ জুন) সকালে অসুস্থ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, নুরুল আলম শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা ছিলেন। তবে পরিবারের অভিযোগ রয়েছে যে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন এবং হেফাজতে নেওয়ার পর নির্যাতনের কারণে তাঁর মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।
পৃথকভাবে, মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ প্রকাশিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও কারা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাগুলি নতুন নয়। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পরেও এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি একটি প্রশ্ন তুলে ধরছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায় যে, ২০২৫ সালে দেশের বিভিন্ন কারাগার ও থানার হেফাজতে অন্তত ৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা ৮০-এরও বেশি হওয়ার দাবি করা হয়েছে।
অধিকারকর্মীদের মতে, কোনো ব্যক্তি অপরাধে অভিযুক্ত হলেও বিচারের দায়িত্ব আদালতের। রাষ্ট্রীয় হেফাজতে নির্যাতন বা রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা আইনশাসন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী।
নুরুল আলমের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল। তাছাড়া, হেফাজতে সংঘটিত প্রতিটি মৃত্যুর স্বচ্ছ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন