প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লালমনিরহাট, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : পানির নিচে বিশেষ পদ্ধতিতে যে ‘মজা সুপারি’ সংরক্ষণ করা হচ্ছে, তা দীর্ঘদিন ধরে লালমনিরহাটের কৃষক ও ব্যবসায়ীদের আয়ের অন্যতম উৎস। তবে এবারে মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার কারণে সংরক্ষিত এ সুপারির দাম গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতির কারণে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
লালমনিরহাটের আদিতমারী, কালীগঞ্জ, সদর, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। জেলার অন্যতম বড় সুপারির বাজার সদর উপজেলার বড়বাড়ী হাটে প্রতি বুধবার ও শনিবার কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী এবং রাজারহাট, রংপুরের কাউনিয়া ও মিঠাপুকুরসহ নানা এলাকা থেকে কৃষক, পাইকার ও মহাজনরা সুপারি কেনাবেচা করার জন্য আসেন।
হাট সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এ সময়ে দেশি মজা সুপারি প্রতি পোন (৮০টি) ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমান বাজার পরিস্থিতি তা ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় নেমে আসছে। একইভাবে প্রতি কাউন (১৬ পোন) সুপারির দাম গত বছরের ৪ হাজার ৮০০ থেকে ৯ হাজার ৬০০ টাকার পরিবর্তে বর্তমানে ২ হাজার ৪০০ থেকে ৫ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষক সাঈদ আলী বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার মজা সুপারি বিক্রি করে ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। বড়বাড়ী ইউনিয়নের কৃষক জাহিদুল ইসলাম জানান, প্রায় অর্ধেক দামে সুপারি বিক্রি করতে হচ্ছে। এই অবস্থায় সংরক্ষণ ও শ্রমিকের খরচও উঠে আসছে না।
ব্যবসায়ী মোস্তফা হোসেন জানাচ্ছেন, তিনি লাভের আশায় মৌসুমের শুরুতে সুপারি কিনে পানির নিচে সংরক্ষণ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে বাজারের দরে ক্রয়মূল্যই উঠছে না। পরিবহন ও সংরক্ষণ ব্যয় যোগ হওয়ায় তার লোকসান আরও বেড়ে গেছে।
মহাজন ফজলুর রহমান বলছেন, সাধারণত মৌসুমের শেষ দিকে সংরক্ষিত সুপারির চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু এবারে বাজারে সরবরাহ বেশি রয়েছে, ফলে সেই চাহিদা তৈরি হয়নি। অপর মহাজন আব্দুল আজিজের মতে, অতিরিক্ত সংরক্ষিত সুপারি একসঙ্গে বাজারে আসার কারণে প্রতিযোগিতা বেড়ে গেছে এবং দাম হ্রাস পেয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন মন্তব্য করেছেন, লালমনিরহাটে গ্রামাঞ্চলের বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় ও নদী তীর জুড়ে প্রচুর সুপারি গাছ রয়েছে। এ ছাড়া জেলায় ৫১৪ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে সুপারির চাষ হয়। সুপারির দাম মূলত উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়ে থাকে।
জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ বলেছেন, মজা সুপারির বর্তমান বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তার কাছে নেই। তিনি এই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য ফিরলে দাম বাড়তে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে উত্তরাঞ্চলের মজা সুপারি খাতের সঙ্গে যুক্ত হাজারো কৃষক ও ব্যবসায়ী বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়তে পারেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন