প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন) এবং আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের ওপর হাই কোর্টে শুনানি সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাই কোর্ট বেঞ্চে শুনানি শেষে রায়ের জন্য সোমবার (২৪ আগস্ট) দিন ধার্য করা হয়েছে।
২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য (ডেথ রেফারেন্স) মামলার সকল নথি হাই কোর্টে পৌঁছে। এরপর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলার পেপারবুক (সব নথি) প্রকাশের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে শ্রেণীয় বিচারক মামলার শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করেন, এরপর তিনি হাই কোর্ট বেঞ্চের শুনানির জন্য নির্ধারণ করেন। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, বিচারিক আদালত যখন কোনো আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়, তখন সেই রায় অনুমোদনের জন্য মামলার সকল নথি উচ্চ আদালতে দাখিল করতে হয়।
সেই অনুযায়ী ডেথ রেফারেন্সটি হাইকোর্টে আসে। একই সাথে আসামিরা জেল আপিল এবং ফৌজদারি আপিলও করেছেন। ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ১৬ জন আসামির প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সাথে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়।
নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এরপর ঘটনার পর মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলা তুলে না নেওয়ার কারণে ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু ঘটে। অগ্নিসন্ত্রাসের এই ঘটনার পর নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।
এই মামলায়, ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় প্রদান করে। রায়ে বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। ডেথ রেফারেন্সের জন্য নুসরাত হত্যা মামলার রায়সহ নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে পৌঁছে, যা ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়। চাঞ্চল্যকর মামলার কারণে ডেথ রেফারেন্সের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক তৈরি করা হয়। আসামিরাও পৃথক আপিল এবং জেল আপিল প্রদান করেছেন।
মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ১৬ আসামি হচ্ছেন— সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা (৫৭), নূর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাক্সুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর (৫০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন (১৯), হাফেজ আব্দুল কাদের (২৫), আবছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মনি (১৯), উম্মে সুলতানা ওরফে পপি (১৯), আব্দুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন ওরফে মামুন (২২), সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসার সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন (৫৫), মহিউদ্দিন শাকিল (২০) এবং মোহাম্মদ শামীম (২০)।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন