প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পিরোজপুরের কাউখালীতে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও বেগবান করার উদ্দেশ্যে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে পিরোজপুর জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং মাদক প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগ-এর আয়োজনে এই সভা সম্পন্ন হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মাদক প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগের আহ্বায়ক ও সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ মনিরুজ্জামান নাসিম আলী। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান।
এ সময় বক্তৃতা করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ, মাদক প্রতিরোধে সামাজিক উদ্যোগের প্রধান সমন্বয়কারী প্রফেসর মোঃ শাহ আলম, প্রভাষক মোঃ লুৎফর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক, কাউখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোঃ রিয়াদ মাহমুদ সিকদার, সিনিয়র সাংবাদিক এনামুল হক, কাউখালী থানার ওসি (তদন্ত) এবাদ আলী, অ্যাডভোকেট কমল মুখার্জি, সুনন্দা সমাদ্দার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহ আলম, শোয়েব সিদ্দিকী, হাফেজ মাওলানা এবাদত হোসেন, প্যানেল চেয়ারম্যান আজম আলী খান, শামসুর রহমান মিল্টন, অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্রবাহিনী পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক সার্জেন্ট (অব.) মোঃ হাবিবুর রহমানসহ আরও অনেক ব্যক্তি।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দি পিরোজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভাইস প্রেসিডেন্ট মেহেদী হাসান, পজেটিভ পিরোজপুরের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক জুবায়ের আল মামুন, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা পিরোজপুর জেলা শাখার সভাপতি হাসান মামুন সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ।
সভায় বক্তারা মাদকাসক্তিকে সমাজের জন্য, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি ভয়াবহ অভিশাপ বলে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, মাদক নির্মূলে শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল হওয়া সম্ভব নয়। বরং পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বক্তারা মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বক্তারা আরও মন্তব্য করেন যে, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পিরোজপুরজুড়ে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে সফল করাটাও জরুরি। সচেতনতা বৃদ্ধি, যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারের মাধ্যমে মাদক বিস্তার রোধ করা সম্ভব বলেও মত প্রকাশ করেন।
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয় বরং পুরো একটি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সুতরাং, মাদক প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা চাই কাউখালীকে একটি মাদকমুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে। সকলেই নিজেদের অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করুন। সচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় শক্তি।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ মনিরুজ্জামান নাসিম আলী বলেন, মাদকবিরোধী আন্দোলনকে শুধু কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এটিকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। সাংবাদিক, শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি এবং তরুণদের মিলিত প্রচেষ্টায় শক্তিশালী একটি সামাজিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারলে মাদক নির্মূল সম্ভব হবে।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক বিভেদ নেই। এটা একটি জাতীয় সমস্যা। যুবসমাজের সুরক্ষা করতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজন। রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসন यदि একত্রে কাজ করে, তাহলে মাদকমুক্ত কাউখালী গড়ে তোলা সম্ভব হবে। আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ পরিবার ও সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন