প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলীয় কুরিতিবা (Curitiba) শহরে একটি কিন্ডারগার্টেনে ১৩ শিশুকে জিম্মি করার একটি রোমহর্ষক ঘটনার অবসান ঘটেছে। তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা রুদ্ধদ্বার আলোচনার পর পুলিশের বিশেষ বাহিনীর সফল ট্যাকটিক্যাল অপারেশনে হামলাকারী নিহত হয়েছে এবং ১৩ শিশুকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সাও ব্রাজ (Sao Braz) এলাকার একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত এক ব্যক্তি স্কুলের গেট টপকে ভেতরে প্রবেশ করে এবং একটি ক্লাসরুমের ১৩ শিশুকে জিম্মি করে। এ সময় হামলাকারী ক্লাসের ভেতরে দাহ্য পদার্থ ছড়িয়ে দিয়ে হাতে লাইটার নিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। হামলাকারীর কাছে একটি ছুরি এবং একটি নকল আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।
প্যারানা রাজ্যের সামরিক পুলিশ স্পেশাল ফোর্সের কমান্ডার Alexandre Lopes Dias সংবাদমাধ্যমকে জানান, জিম্মি সংকট নিরসনে পুলিশের অভিজ্ঞ নেগোশিয়েশন টিম দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চালিয়ে যায়। কিন্তু একপর্যায়ে শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়লে হামলাকারী তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করে এবং মারধর করতে থাকে। বড় ধরনের প্রাণহানি বা বিপর্যয় এড়াতে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বিশেষ অভিযান (Tactical Intervention) পরিচালনা করে।
অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফ্ল্যাশ ব্যাং (flash bangs) ব্যবহার করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ক্লাসরুমে প্রবেশ করে এবং হামলাকারীকে নিষ্ক্রিয় করে। এতে ঘটনাস্থলেই ওই সন্দেহভাজন নিহত হয়। তবে জিম্মি থাকা অবস্থায় হামলাকারীর মারধরে অন্তত এক শিশু আহত হয়েছে।
এদিকে সন্তানদের ফিরে পেয়ে বাইরে অপেক্ষমাণ উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। কুরিতিবার মেয়র Eduardo Pimentel সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে জানান, "১৩ শিশু এখন জীবিত এবং সম্পূর্ণ নিরাপদ! চরম উৎকণ্ঠা ও উত্তেজনার মুহূর্তগুলোর পর এটিই আমাদের সবার কাঙ্ক্ষিত সংবাদ।"
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত শিশু ও স্কুলটির শিক্ষকদের মানসিক ট্রমা কাটিয়ে উঠতে বিশেষ মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা (Psychological Support) প্রদান করা হবে। ব্রাজিলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন