০৬:২১ পি.এম
বরিশালে বাবুগঞ্জে এমন একটি অভিযোগ উঠেছে যেখানে টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সরকারি সম্পদ বিক্রি করা হয়েছে, আর এই অভিযোগ সাপোর্ট করছে আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতার নাম যারা শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে অভিযুক্ত।
আধিকারিক সূত্রে জানা গেছে, সরকারি আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজের তিনতলা ভবনের তৃতীয় তলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল এবং পরে সেই ভবনের ছাদের পুরাতন রড, লোহার রড, ঢেউটিন, পুরাতন দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন মালপত্র প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ৯৪ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। অভিযোগ উঠেছে যে এ বিক্রয় প্রক্রিয়ায় কোনো উন্মুক্ত টেন্ডার আহ্বান করা হয়নি, যা সরকারি নীতির লঙ্ঘন করে।
গত ১৪ মে বিকেলে সরকারি আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বিক্রয়কৃত মালপত্র সরানোর প্রস্তুতি চলছিল। ট্রাকে মালপত্র তুলতে গিয়ে স্থানীয় বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সরোয়ার হাওলাদার ও বাস্তুহারা দলের সভাপতি মো. সোহাগ হাওলাদার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই ট্রাকটি আটকে দেন।
আরও পড়ুন: সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর ৫ বছরের শিশুর সঙ্গে নৃশংসতা, পরে মৃত্যু
ঘটনাস্থলে সরকারি আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম ও প্রভাষক মো. সেলিম হোসেন মালপত্র ট্রাকটিতে তুলতে উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় স্থানীয় নেতারা টেন্ডার ছাড়া সরকারি মালপত্র বিক্রির ব্যাপারে কৈফিয়ত চান এবং পরে শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ আগায়।
সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম মন্তব্য করেন, ভয়ভীতি দেখিয়ে দেহেরগতি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার হাওলাদার তাদের কাছ থেকে নগদ ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে যান। অন্যদিকে, ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। কলেজ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. শামীম হোসেন জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি ছুটিতে আছেন। কলেজ ক্যাম্পাসে পুরাতন মালপত্রের কারণে শিক্ষার্থীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছিল। আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা সামনে রেখে কলেজ কর্তৃপক্ষ রেজুলেশনের মাধ্যমে মালপত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি দাবি করেন, বিক্রির অর্থ সরকারি রাজস্ব খাতে জমা দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, "একটি চক্র ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নিয়ে আমার শিক্ষকদের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।" কলেজের প্রভাষক সেলিম হোসেন বলেন, "রেজুলেশন অনুযায়ী মালপত্র বিক্রি করা হয়েছে। ক্রেতা মালপত্র নিতে এলে আমরা উপস্থিত থেকে বুঝিয়ে দিই। তখন স্থানীয় কয়েকজন এসে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করে। ওই সময়ে স্থানীয় সোহাগ হাওলাদার উপস্থিত ছিলেন।"
আরও পড়ুন: নকলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ২দিন ব্যাপি মৌলিক প্রশিক্ষণ
এবং অভিযোগের ব্যাপারে দেহেরগতি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার হাওলাদারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দিতে পারেননি। অন্যদিকে, বাস্তুহারা দলের ইউনিয়ন সভাপতি সোহাগ হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার কথা স্বীকার করেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, সরকারি কলেজের কোনো ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা কিংবা মালপত্র বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি নীতিমালা অনুসরণ বাধ্যতামূলক। সূত্রটি জানায় আগে সংশ্লিষ্ট ভবনটি প্রকৌশলগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বা পরিত্যক্ত হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে মালপত্রের মূল্য নির্ধারণ করে উন্মুক্ত নিলাম বা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বিক্রির নির্দেশনা রয়েছে। কোনো অবস্থাতেই সরকারি মালপত্র সরাসরি ব্যক্তি পর্যায়ে বিক্রির সুযোগ নেই বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের অনিয়ম আরো বাড়বে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা হবে অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও আইনশৃঙ্খলার জন্য অশনিসংকেত। বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান এই বিষয়ে বলেন, "বিষয়টি লিখিতভাবে অভিযোগ আকারে পেলে দলীয়ভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো ব্যক্তি দলের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করলে তার দায় দল নেবে না।"
আরও পড়ুন: নকলায় ভিডব্লিউবি কর্মসূচির চাল বিতরণ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন