প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টানা ৩০ বছর ধরে ২২০ কোটি ইউয়ানের (যা প্রায় ৩২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ হাজার ৯৯৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বেশি) ঘুষ নেওয়ার অপরাধে পূর্ব চীনের একটি আদালত মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে সাবেক এক নগর কর্মকর্তাকে।
দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার দিক থেকে এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় একটি ঘটনা। ঘুষ নিয়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ব্যক্তির নাম ইয়াং ইউলিন। তিনি ১৯৯৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নানজিং শহরের বিভিন্ন সরকারি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। নিয়োগকালে তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। দেশটিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দুর্নীতির মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের মধ্যে তিনি অন্যতম। বর্তমানে তার বয়স ৬৯ বছর।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানাচ্ছে যে, ইয়াং ইউলিন নিজের পদমর্যাদার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রকৌশল প্রকল্পের চুক্তি, জমি হস্তান্তর ও অর্থায়নের ব্যবস্থা করার বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গ্রহণ করতেন। প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের দুর্নীতিবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানের অংশ হিসেবে ইয়াংয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। বর্তমানে চীনে সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং ব্যাংকিং খাতের শীর্ষ পর্যায়ে কর্মরত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও একই রকম দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) চাংঝৌ শহরের আদালত রায়ে জানিয়েছে, ইয়াং কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় নানজিংয়ের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নসংক্রান্ত কাজে কাটিয়েছেন। সেই সময়ের তার অপরাধের কারণে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে বিরাট ও অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
শি চিন পিং চীনের ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করেছেন। তবে সমালোচকরা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরিয়ে দিতে এসব অভিযান ব্যবহৃত হচ্ছে। চীনে সাধারণত আর্থিক বা কর্মক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে কর্মকর্তাদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া খুবই বিরল। তবুও, কিছু ক্ষেত্রে, বিশেষ করে যদি দুর্নীতির পরিমাণ ১০০ কোটি ইউয়ান অতিক্রম করে, শাস্তি দেওয়া হয়। এর পূর্বে চীনের অর্থবিষয়ক সাবেক প্রধান কর্মকর্তা লাই শিয়াওমিনকে ১০ বছর ধরে ১৮০ কোটি ইউয়ান ঘুষ নেওয়ার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ২০২১ সালে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। এছাড়া ৩০০ কোটি ইউয়ানের বেশি অর্থ আত্মসাৎ ও ঘুষ নেওয়ার অপরাধে ২০২৪ সালে ইনার মঙ্গোলিয়ার সাবেক কর্মকর্তা লি জিয়ানপিংয়ের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।
অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে, দেশটির আদালত আসামিদের কারাদণ্ড বা স্থগিত মৃত্যুদণ্ড দিয়ে থাকেন, যা নির্দিষ্ট সময় পর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হয়। কখনো কখনো দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিরা অন্য অপরাধীদের সম্পর্কে তথ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করলে আদালত তাঁদের সাজা কমিয়ে দেন। ইয়াংও এই ধরনের তথ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষকে সাহায্য করেছিলেন। কিন্তু তার অপরাধের গুরুত্ব এতটাই বেশি ছিল যে ওই সহযোগিতা তার শাস্তি কমাতে পারেনি বলে চাঙঝৌ আদালত জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত খবরে বলা হয়েছে, ইয়াং আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং চূড়ান্ত বক্তব্যে গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন