প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইয়েমেনের রাজধানী সানায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনী। ইরানের একটি বিমানের অবতরণ ঠেকাতে রানওয়ে লক্ষ্য করে এই হামলা অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার (১৩ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে।
একটি বিবৃতিতে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের শাসকগোষ্ঠী-সমর্থিত হুথি মিলিশিয়ারা সানা বিমানবন্দরে ইয়েমেনের একটি বিমান অবতরণে বাধা সৃষ্টি করছে। এছাড়াও তারা ইরানের একটি বিমানকে দেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে অবতরণের সুযোগ করে দিতে চাপ প্রয়োগ করছে। এই অবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় হুথি নিয়ন্ত্রিত বিমানবন্দরে ইরানের ওই বিমানের অবতরণ প্রতিরোধ করতেই রানওয়েকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
বর্তমানে ইয়েমেনের রাজধানী সানা ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের অধীনে রয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরবসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের সমর্থন পাওয়া দেশটির বৈধ সরকার দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরনগরী এডেন থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। রানওয়েতে হামলার ঘটনার পর ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বেসামরিক নাগরিক, শ্রমিক, কূটনৈতিক মিশন ও মানবিক সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যে তারা পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত অবিলম্বে বিমানবন্দর এবং এর আশপাশের এলাকা খালি করে দেবেন।
রানওয়েতে এই হামলার ঘটনার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করে কঠিন জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি একটি সতর্কবার্তায় বলেছেন, এই হামলার বিষয়টি নিয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং এর যথাযথ জবাব দেওয়া হবে। তবে সৌদি আরবের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে গোষ্ঠীটি তাৎক্ষণিকভাবে কোন প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।
এদিকে, গত তিন দিনে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৩০০টির বেশি স্থাপনা ও লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছেন মার্কিন সামরিক বাহিনী। সোমবার (১৩ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি বার্তায় সেন্টকম জানায়, গত তিন দিনে শনিবার (১১ জুলাই) সবচেয়ে বড় পরিসরে হামলা চালানো হয়েছে। ওই দিন, ইরানের সামরিক বাহিনীর ১৪০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়।
মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, নৌবাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা, গোলাবারুদের ডিপো, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও উপকূলীয় এলাকার নজরদারি-সংক্রান্ত রাডার ও স্থাপনা।
সেন্টকম বলেছে, সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) যে হামলা পরিচালনা করেছে, তার প্রতিরোধের জন্য তেহরানকে জবাবদিহির আওতায় আনতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন