প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণ কোরিয়ায় পর্যটন ও আতিথেয়তার শিল্পে একটি বড় পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। এখন কেবল মানুষের জন্য নয়, পরিবারের প্রিয় পোষা প্রাণীটিও পাচ্ছে ফাইভ-স্টার হোটেলের সমান রাজকীয় সেবা। গেল মে মাসের দীর্ঘ ছুটিতে দেশের বিভিন্ন পেট-ফ্রেন্ডলি (পোষা প্রাণী-বান্ধব) রিসোর্টগুলো ছিল উপচেপড়া ভিড়ের কেন্দ্রবিন্দু।
বুকিং ফি বেশি হলেও কয়েক মাস আগেই বিশেষায়িত সব রুমগুলো বুক হয়ে যাচ্ছে পেট-ফ্রেন্ডলি রিসোর্টগুলোর জন্য। এক সরকারি জরিপে জানা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় ২৯ দশমিক ২ শতাংশ পরিবারে বর্তমানে পোষা প্রাণী রয়েছে। আর এই বিশাল সংখ্যক অংশকে কেন্দ্র করে একটি নতুন পর্যটন অর্থনীতি গড়ে উঠছে।
রিসোর্টে পোষা কুকুরদের রাজকীয় সেবা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে, হোটেল বা রিসোর্টে প্রবেশের প্রথম শর্ত হল স্বাস্থ্য সচেতনতা। কুকুরের জলাতঙ্ক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনের কাগজপত্র দেখিয়ে এখানে চেক-ইন করতে হয়। করিডোরজুড়ে রাখা হয় মলমূত্র পরিষ্কারের জন্য বিশেষ কিট। পাশাপাশি, ‘পেট-পোর্ট’ নামক একটি লয়্যালটি প্রোগ্রামও রয়েছে, যেখানে বারবার ভ্রমণের জন্য আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে।
যদি কোনো জরুরি প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে মালিকরা কুকুরকে রিসোর্টের ট্রেইনারদের কাছে কিছু সময়ের জন্য ডে-কেয়ারে রেখে বাইরেও যেতে পারেন। কুকুরের চোখের আরামের জন্য এবং সুরক্ষার উদ্দেশ্যে তৈরি করা বিশেষ রুম সাধারণ রুমের মতো নয়। কুকুরের জয়েন্টের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে, মেঝেতে ব্যবহার করা হয়েছে নন-স্লিপ বা পিছলে না যাওয়ার টাইলস। খাটগুলো বেশ নিচু করে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে কুকুর সহজেই উঠতে পারে। এমনকি কুকুরের চোখের সংবেদনশীলতার দিকে লক্ষ্য রেখে রুমের লাইটিং করা হয়েছে নরম ও পরোক্ষ। প্রতিটি রুমে কুকুরের জন্য তোয়ালে, কুশন এবং সুস্বাদু খাবার দিয়ে দেয়া হয়।
রিসোর্টের বাইরে ৫ হাজার বর্গমিটার প্রাকৃতিক ঘাসের একটি বিশাল মাঠ রয়েছে। কুকুরের আকার অনুযায়ী (ছোট, মাঝারি ও বড়) মাঠটিকে ভাগ করা হয়েছে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় হচ্ছে এখানকার ডাইনিং বা রেস্তোরাঁ। কুকুরের জন্য বিশেষ চেয়ার রয়েছে, যাতে তারা মালিকের মুখোমুখি বসে খেতে পারে। এখানে কুকুরের জন্য ২৪ হাজার কোরিয়ান উয়ন মূল্যের বিশেষ ‘স্টেক কোর্স’ সরবরাহ করা হয়, যার সাথে রয়েছে স্যুপ, পুডিং এবং বাঁধাকপি দিয়ে তৈরি কুকুরের বিশেষ ‘ওয়াইন’।
উদ্ধার হওয়া কুকুরের পুনর্বাসন ও উৎসবের কার্যক্রম এ আতিথেয়তা কেবল ব্যবসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সিউল অ্যানিম্যাল কেয়ার সেন্টারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে একটি পেট-ফ্রেন্ডলি রিসোর্ট রয়েছে, যার নাম সোনো পেট রিসোর্ট। তারা আশ্রয়হীন ও সুবিধাবঞ্চিত কুকুরদের এনে এখানে বিশেষ সামাজিকীকরণ প্রশিক্ষণ দেয় এবং তাদের জন্য নতুন পরিবারের সন্ধান করে।
এছাড়াও, সেখানে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় দেশের সবচেয়ে বড় পোষা প্রাণীদের উৎসব ‘দাংদাং ট্র্যাকিং’। আয়োজিত এই উৎসবে প্রায় ৪ হাজার কুকুর তাদের মালিকসহ অংশ নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পোষা প্রাণীকে পরিবারের অংশ হিসেবে মনে করার মানসিকতা এবং স্থানীয় সরকারগুলোয়ের পর্যটন খাতে বিনিয়োগের ফলস্বরূপ দক্ষিণ কোরিয়ায় এই ‘পেট-হসপিটালিটি’ বা পোষা প্রাণীদের আতিথেয়তা শিল্পে এক অভাবনীয় বিপ্লব ঘটেছে। বর্তমানে এ দেশে পোষা প্রাণী শুধু সঙ্গীই নয়, পরিবার সদস্য হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন