প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চলতি বছরের শুরুর দিকে ইকুয়েডরের উপকূলে তিনটি মাছ ধরার নৌযানে হামলার ঘটনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা থাকার সম্ভবনা রয়েছে বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি এ দাবি করেছে। এসব হামলায় অন্তত আটজন নিখোঁজ হন। অভিযোগ অনুযায়ী, জানুয়ারি মাস থেকে মার্চ মাসের মধ্যে এসব হামলা ঘটে। ওই সময়, লাতিন আমেরিকার উপকূলের কাছাকাছি মাদক বহন করছে সন্দেহ করা নৌযানগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিতর্কিত হামলা জোরদার করে। ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। এসব হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ২১৫ জন নিহত হয়েছেন। এইচআরডব্লিউসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এসব হামলাকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো হুমকি না থাকা বেসামরিক ব্যক্তিদেরই হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এইচআরডব্লিউর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাছ ধরার নৌযান লা নেগ্রা ফ্রান্সিসকা দুয়ার্তে-২ এবং ডন মাকা হামলার শিকার হয়। আর ২০ জানুয়ারি তৃতীয় নৌযান ফিওরেলা তাতে আটজন নাবিকসহ নিখোঁজ হয়ে যায়।’ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ ও কোস্ট গার্ড এসব হামলায় দায় অস্বীকার করেছে।’ তবে হামলায় বেঁচে যাওয়া ১৩ জনসহ ৬২ জনের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে পরিচালিত এই তদন্তে, এইচআরডব্লিউর সিদ্ধান্ত হলো, ‘এসব হামলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কোনো না কোনোভাবে জড়িত ছিল অথবা এ বিষয়ে তাদের পূর্বে জানা ছিল।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘১৭ ও ২৬ মার্চ যথাক্রমে লা নেগ্রা ফ্রান্সিসকা দুয়ার্তে-২ এবং ডন মাকার নাবিকরা জানান, তাদের ওপর সশস্ত্র ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল।’ এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার প্রতীকসংবলিত সামরিক ধাঁচের পোশাক পরা সশস্ত্র মার্কিন নাগরিকরা তাদের কাছাকাছি থাকা একটি নীল-সাদা জাহাজে আটকে রাখেন। পরে তাদের এল সালভাদরের কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এইচআরডব্লিউ অপরাধমূলক মাদক পাচার দমনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইকুয়েডরের যৌথ সামরিক অভিযানেরও সমালোচনা করেছে। সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, এসব অভিযানে নির্যাতন ও খামখেয়ালি আটক করার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়, ‘ইকুয়েডরের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা ঘিরে যে বহু প্রশ্ন রয়েছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট জবাব দাবি করা উচিত।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন