প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার সফরে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের অংশ হিসেবে স্থানীয় পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, রাজনৈতিক জনসভা ও সুধী সমাবেশে অংশগ্রহণ করবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে কক্সবাজার নতুন সাজে সেজেছে। এই উপলক্ষে স্থানীয় প্রশাসনে ব্যাপক তৎপরতা ও প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিএনপিসহ তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে তোরণ নির্মাণ না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে দলীয় নেতা-কর্মীদের। ফলে জনসমাগমের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে বরণের প্রস্তুতি চলছে কক্সবাজারজুড়ে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর তদারকি করার জন্য শুক্রবার দুপুরে কক্সবাজার পৌঁছেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ ছয়জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। সফরের সূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ১০টায় কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন।
সেখানে তিনি সরাসরি সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে পাতলী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন এবং সেখানে আয়োজিত পথসভায় অংশগ্রহণ করবেন। পরবর্তীতে তিনি ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করবেন এবং মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
এছাড়া গণ অভ্যুত্থানের শহীদ মো. ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করবেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। বিকেলে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক জনসভায় অংশগ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী।
পরে তিনি মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্রসৈকত পরিদর্শন করবেন। সফরের আগে নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরি উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। রাতে কক্সবাজার শহরের লং বিচ হোটেলের অডিটোরিয়ামে সুধী সমাবেশে যোগ দেবেন। এরপর রাতেই কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে গতকাল জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নানের সভাপতিত্বে এক প্রস্তুতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। সভার পর জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের নির্ধারিত কর্মসূচিগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
কক্সবাজারে ছয়জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সফরের সার্বিক প্রস্তুতি যাচাই করতে কক্সবাজার পৌঁছেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা কক্সবাজারে পৌঁছে বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। বৈঠকের পর তারা প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর উদ্বোধনী স্থান, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের স্থান, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির স্থান এবং রাজনৈতিক জনসভা ও সুধী সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেন। এর আগে নির্ধারিত বিভিন্ন কর্মসূচির স্থান পরিদর্শন করেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফরের প্রতিটি কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করতে আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ সফর স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে আমরা আশা করছি।
কক্সবাজারবাসী আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ, পর্যটন নগরীকে পরিকল্পিতভাবে আধুনিক পর্যটন শহরে রূপান্তর, পান, লবণ ও মৎস্য শিল্পের আধুনিকায়নের বিষয়ে ঘোষণা দিবেন। আরও ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার দাবিও রয়েছে তাদের।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন