প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যৌন নির্যাতন মামলার রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলে ট্রাম্প হেরেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের সুপ্রিম কোর্টে তাঁর আপিল শুনতে রাজি না হওয়ার কারণে আগের রায় বহাল থাকছে।
ফলস্বরূপ, ট্রাম্পকে লেখক ও সাংবাদিক ই. জিন ক্যারলকে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
২০২৩ সালে নিউইয়র্কের একটি জুরি রায় দেয় যে ১৯৯০ এর দশকে, ট্রাম্প ক্যারলকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন এবং পরে সামাজিক মাধ্যমে ঘটনাটিকে গুজব বলে উল্লেখ করে মানহানি করেছেন। এর কারণে জুরি ক্যারলকে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ট্রাম্প সব সময় এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
তিনি দাবি করেছেন, মামলার বিচারক এমন কিছু প্রমাণ উপস্থাপনের অনুমতি দিয়েছেন, যা জুরিদের কাছে তাঁর ভাবমূর্তিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে।
গত বছর একটি ফেডারেল আপিল আদালতও জুরির রায় বহাল রেখেছে এবং নতুন করে বিচারের প্রয়োজন নেই বিষয়টি জানানোর পরে, ট্রাম্প বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে যান। তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্ট কেন মামলাটি গ্রহণ করেনি সে সম্পর্কে কোন ব্যাখ্যা দেয়নি।
এই আপিল ছিল জুরির সর্বসম্মত রায় বাতিলের জন্য ট্রাম্পের শেষ আইনি চেষ্টা। ফলে এখন তাঁকে ক্যারলকে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর, ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা কাপলান এক বিবৃতিতে বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে জুরি যে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল তা চূড়ান্তভাবে বহাল থাকল, যা নির্দেশ করছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন ও মানহানি করেছেন।
তিনি বলেন, ‘এই রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের একের পর এক আপিল ব্যর্থ হয়েছে। আজকের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাঁর কৃতকর্মের দায় এড়ানোর সব প্রচেষ্টার অবসান ঘটেছে।’
অন্যদিকে, রায় ঘোষণার পর ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন। সেখানে তিনি মামলাটিকে ‘হাস্যকর মানহানির দাবি’ এবং ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আইনি লড়াই’ বলে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প বলেন, তিনি এই মামলার বিরুদ্ধে সমস্ত শক্তি ও সামর্থ্য দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবেন। তিনি আরো দাবি করেন, ‘এই মামলাটি শুধু আমার বিরুদ্ধে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মূল্যবোধের বিরুদ্ধে। ভবিষ্যতে কোনো প্রেসিডেন্ট বা প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটতে দেওয়া উচিত নয়।’
ট্রাম্পের দাবি, তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করার উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে একটি বিশেষ আইন ব্যবহার করা হয়েছে, যা বহু বছর আগের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করার সুযোগ দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই আইনটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল এবং এমন অবিচার চলতে দেওয়া যায় না।’
সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা আবেদনে ট্রাম্পের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, মামলার জুরিদের ২০০৫ সালের ‘অ্যাক্সেস হলিউড’ টেপটি দেখানো উচিত হয়নি। ওই টেপে ট্রাম্পকে নারীদের স্পর্শ করা ও চুম্বন করার বিষয়ে মন্তব্য করতে শোনা যায়।
এদিকে, ক্যারল সম্পর্কে ট্রাম্পের পরবর্তী মন্তব্যের কারণে আরেকটি পৃথক মামলায় জুরি তাঁকে মানহানির জন্য ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। পরে ফেডারেল বিচারকদের একটি প্যানেল সেই রায়ের বিরুদ্ধে করা ট্রাম্পের আপিলও খারিজ করে দেয়।
যদিও জুরি সিদ্ধান্তে ট্রাম্পকে ক্যারলের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন ও মানহানির জন্য দায়ী বলা হয়, তবে নিউইয়র্কের ফৌজদারি আইনে সংজ্ঞায়িত ধর্ষণের অভিযোগটি তাঁরা গ্রহণ করেনি। বর্তমানে ৮১ বছর বয়সী ক্যারল একজন সাবেক ম্যাগাজিন কলামিস্ট। তিনি অভিযোগ করেন, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ম্যানহাটনের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরের ড্রেসিং রুমে ট্রাম্প তাঁকে যৌনভাবে আক্রমণ করেছেন। ২০২২ সালে ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট দিয়ে এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। এরপরেই ক্যারল তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন