প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালের নগরীর সাগরদীতে একটি ক্লিনিকে চার ফুট দীর্ঘ একটি কালনাগিনী সাপ উদ্ধার করেছে এনিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর সদস্যরা।
রোববার (১৪ জুন) দুপুর ৩টার দিকে বরিশাল মেডিকেল সার্ভিসেস নামক ক্লিনিকের এসির মধ্যে সাপটি উদ্ধার করা হয়।
প্রতিষ্ঠানের মালিক, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. এসএম আবুল হাসান জানান, ক্লিনিকের এসি খুলে বাসায় নেয়ার জন্য কোম্পানির লোক আসে। তারা যখন এসি খুলতে যায়, তখন ভেতরে দুটি সাপ দেখতে পেয়ে আতঙ্কে ডাক-চিৎকার শুরু করে।
পরে ৯৯৯-এ কল করে সহযোগিতা চাইলে তারা এনিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর পরিচালক আসাদুল্লাহ হাসান মুসার নম্বর দেন। এরপর উনি যোগাযোগ করলে, দুপুর ২টার দিকে মুসা ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
এনিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর পরিচালক আসাদুল্লাহ হাসান মুসা জানান, দুপুর ২টা থেকে টানা দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে প্রায় চার ফুট দীর্ঘের কালনাগিনী সাপটি উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ক্লিনিকের পেছনে অনেক ঝোপ-ঝাড় রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেখান থেকে এসির পাইপ বা দেয়ালের ফাঁকা জায়গা দিয়ে সাপটি এসির ভেতরে ঢুকেছে। তবে ক্লিনিকের লোকেরা দাবি করেছেন যে তারা দুটি সাপ দেখেছে। কিন্তু সেখানে একটি সাপই পাওয়া গেছে। উদ্ধার হওয়া সাপটি প্রাপ্ত বয়স্ক হলেও এ সাপ মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। সাপটি বন বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে, গত ৭ ও ৮ জুন বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে ডিআইজির কক্ষ থেকে দুই জোড়া অর্থাৎ ৪টি মৃদু বিষধর কালনাগিনী সাপ উদ্ধার করেছিলেন এনিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর সদস্যরা। অফিস ও ক্লিনিক থেকে সাপ উদ্ধার হওয়ায় নাগরিকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
এদিকে, দুই সাপ উদ্ধার করায় ‘এনিমেল লাভার্স অব কলাপাড়ার’ সদস্যদের প্রশংসা করেন বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা। তিনি জানান, দেশে পাওয়া দৃষ্টিনন্দন সাপগুলোর মধ্যে কাল নাগিনী (Ornate Flying Snake) অন্যতম। অঞ্চলভেদে সাপটিকে উড়াল সাপ, সুন্দরী সাপ, কাল সাপ ইত্যাদি নামেও ডাকা হয়। ইংরেজি নামের সঙ্গেও ‘ফ্লাইং স্নেক’ রয়েছে, তবে সাপটি মোটেও উড়তে পারে না। সাপটি গাছের উঁচু ডাল থেকে নিচু ডালে লাফিয়ে নামে। কাল নাগিনী দিবাচর ও শান্ত স্বভাবের সাপ। খুব বেশি বিরক্ত করা না হলে কামড়ায়ও না। এরা গিরগিটি, বাদুড়, ইঁদুর, ছোট পাখির ডিম ও কীটপতঙ্গ খায়। সাধারণত মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত এদের প্রজনন মৌসুম। সাপটি একবারে ৬-১২টি ডিম পাড়ে, যা থেকে দুই মাস পর বাচ্চা ফোটে।
তিনি আরও বলেন, কাল নাগিনী নির্বিষ সাপ। অথচ নাটক বা সিনেমায় কাল নাগিনীকে ভয়ংকর বিষধর সাপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে মানুষ সাপটি দেখামাত্রই মেরে ফেলে। এতে এই সুন্দর প্রাণীটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন