প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে উরুগুয়ের বিদায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছিল। প্রথম দুই ম্যাচে অপেক্ষাকৃত দুর্বল সৌদি আরব ও কেপ ভার্ডের সঙ্গে ড্র করার পর স্পেনের বিপক্ষে জয় পেতেই হতো দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। তবে মাঠের ভেতরে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের সঙ্গে কোচ বিয়েলসার সম্পর্কের টানাপোড়েনও দলটির ব্যর্থতাকে আরো স্পষ্ট করেছে। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর উরুগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এইউএফ) এখনো বিয়েলসার ভবিষ্যৎ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বললেও, এটি অনুমিত যে তিনি আর দায়িত্বে থাকবেন না।
এদিকে, বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া দলটি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে এইউএফ। মেক্সিকোর প্লায়া দেল কারমেনে অবস্থানরত প্রতিনিধিদলকে জানানো হয়েছে যে, আগেই নির্ধারিত চার্টার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। স্পেনের কাছে গুয়াদালাহারার অ্যাক্রন স্টেডিয়ামে ১-০ গোলে হারের পর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।
ফলে ২৬ জন ফুটবলার, বিয়েলসার কোচিং স্টাফ এবং দলের অন্যান্য কর্মকর্তারা আর একসঙ্গে রাজধানী মন্টেভিডিও ফিরবেন না। প্রত্যেককেই নিজ নিজ গন্তব্যে বাণিজ্যিক (কমার্শিয়াল) ফ্লাইটে আলাদাভাবে যাত্রা করতে হবে।
তবে এইউএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটি দলের প্রতি কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়; বরং শুরু থেকে এমন পরিকল্পনা ছিল।
বিবৃতিতে বলা হয়, 'যাওয়ার সময় প্রতিনিধিদলের সদস্যসংখ্যা ছিল ১৫০ জনেরও বেশি এবং ৫ হাজার কেজির বেশি লাগেজ ও সরঞ্জাম বহন করতে হয়েছিল। তাই চার্টার ফ্লাইটের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ফেরার ক্ষেত্রে শুরু থেকেই চার্টার ফ্লাইটের পরিকল্পনা ছিল না, কারণ দল কোথা থেকে বিদায় নেবে তা আগে থেকে নিশ্চিত ছিল না।'
আরও বলা হয়, 'এখন প্রতিনিধিদলের সদস্যসংখ্যা অনেক কমে গেছে। তাই ২৮ জুন থেকে বাকি সদস্যরা বাণিজ্যিক ফ্লাইটে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরতে শুরু করবেন। এটিই সবচেয়ে দ্রুত ও কার্যকর উপায়। তারা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে সোমবারের মধ্যে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাবেন।'
উরুগুয়ের অনেক ফুটবলার যদিও মন্টেভিডিওয়েও ফিরবেন না। তারা মেক্সিকো থেকেও সরাসরি ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে চলে যাবেন, যেখানে তারা ক্লাব ফুটবল খেলেন। দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর মৌসুম শেষে কয়েকদিন বিশ্রাম নিয়ে পরে নিজ নিজ ক্লাবের প্রাক-মৌসুম অনুশীলনে যোগ দেবেন।
এদিকে বিয়েলসার উত্তরসূরি কোচ হিসেবে মার্সেলো গালিয়ার্দোর নাম আলোচনায় এলেও, এইউএফ তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিতে চায় না। ধারণা করা হচ্ছে যে, ২০২৭ সালের মার্চ বা এপ্রিলের নির্বাচনের আগে বিয়েলসার উত্তরসূরি নিয়োগ দেওয়া হবে না।
একইসঙ্গে উরুগুয়ে ফুটবলে আর্থিক কাঠামো থেকে শুরু করে যুব দল পর্যন্ত বড় ধরনের পুনর্গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মার্সেলো ব্রোলিকে অনূর্ধ্ব-২০ দলের প্রধান কোচ এবং পরবর্তী বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শুরুতে অন্তর্বর্তীকালীন সিনিয়র দলের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন