প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্র কি চলমান বিমান হামলার পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলীয় ইরানে সীমিত পরিসরে কোনও স্থল আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে? সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির সামরিক অবকাঠামো এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর হামলার তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় এই প্রশ্নটি এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় আলোচনা হয়ে উঠেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পশ্চিম এশিয়া জুড়ে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। এর আগে গত জুন মাসে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধবিরতির একটি স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, কিন্তু তা অত্যন্ত তাড়াতাড়ি ভেঙে পড়ে। জুলাই মাসের শুরু থেকেই ওয়াশিংটন নতুন করে তেহরানের ওপর হামলা শুরু করে, যার ফলস্বরূপ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আক্রমণ চালায় ইরান। এরপর থেকে সংঘাতের রূপ পুরোপুরি বদলে গেছে।
প্রাথমিকভাবে যুদ্ধটি হরমুজ প্রণালি ও সামুদ্রিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এটি দক্ষিণাঞ্চলীয় ইরানের পরিবহন নেটওয়ার্ক, বন্দর, রেলপথ এবং সাঁজোয়া ডিভিশনে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে খুজেস্তান, বুশেহর, হোরমোজগান এবং সিস্তান ও বেলুচিস্তান; এই চারটি খনিজ ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশের ওপর লাগাতার হামলা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, জলপথ অবরোধের কৌশল যথেষ্ট না হওয়ায় এখন এই প্রদেশগুলোর সাথে মধ্য ইরানের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরানি পক্ষ এবং আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পূর্ণাঙ্গ কোনো দখলদারিত্বের জন্য পর্যাপ্ত সেনা মার্কিন বাহিনীর হাতে নেই।
ইরানের ৮ কোটি ৮০ লাখ জনসংখ্যার বিপরীতে এই বিশাল ভূখণ্ডে পূর্ণ সামরিক দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্য ১৭ লক্ষাধিক সেনার প্রয়োজন, যা মার্কিন মোট সক্রিয় সেনার চেয়েও বেশি। এমনকি কুয়েত বা অন্যান্য অঞ্চলে সামান্য কিছু সেনা বাড়ানো হলেও তা সীমিত কোনো উপকূলীয় বা দ্বীপাঞ্চল দখল অভিযানের চেয়ে বেশি কিছু নয়।
ইতিমধ্যে ইরানের পক্ষ থেকেও কঠোর বার্তা প্রদান করা হয়েছে। তেহরানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও কূটনীতিকরা এ ব্যাপারে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো স্থল আগ্রাসনের চেষ্টা করে, তবে তা হবে তাদের জন্য এক বিরাট বিপর্যয়। ইরানি বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক গভীরতা ও সরবরাহ লাইনগুলোতে সুনির্দিষ্ট আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে, পূর্ণাঙ্গ আক্রমণের সম্ভাবনা কম থাকলেও সীমিত কোনো স্থল অনুপ্রবেশের ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সূত্র: আল মায়াদিন
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন