প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মুনতাকিমের নিজের সম্পর্কে ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ দাবি করা বক্তব্য এক্সপাঞ্জ (কার্যবিবরণী থেকে বাদ) করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
রোববার (২১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের ১১তম দিনের কার্যক্রমের শুরুতে তিনি এই ঘোষণা দেন।
এদিন পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিন বলেন, গত ১৪ জুন নীলফামারী-৪ আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আবদুল মুনতাকিম বাজেট আলোচনায় নিজেকে ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ দাবি করেন। কিন্তু তার বাবা এখনও জীবিত আছেন। তাই আমি এই অসত্য তথ্য এক্সপাঞ্জ করার জন্য অনুরোধ করছি।
এখন স্পিকার জবাবে বলেন, ওই সংসদ সদস্য সেদিনই আমার চেম্বারে এসে জানিয়েছেন যে, ভুলক্রমে তার মুখ থেকে কথাটি বেরিয়েছে। বিষয়টি পত্রপত্রিকায়ও এসেছে এবং তিনি নিজে ভুল স্বীকার করেছেন। সেজন্য এটিকে সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করা হবে।
এদিন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে নিজের করা একটি বক্তব্যও এক্সপাঞ্জ করেছেন (কার্যবিবরণী থেকে বাদ)।
স্পিকার বলেন, গত ১৮ জুন ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে মাওলানা মামুনুল হক সম্পর্কে কথিত পরকীয়া ও মুতা বিয়ে নিয়ে কিছু মন্তব্য করেন, যা অনভিপ্রেত। সংসদে এসে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নেই এমন একজনের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করা অনুচিত। সে কারণে আমি এমপি আবু আশফাকের মন্তব্য এক্সপাঞ্জ করেছি। একইসঙ্গে আমি যে ওইদিন বলেছিলাম, ‘কোনো ব্যক্তির জীবনের অন্ধকার অধ্যায় এখানে আলোচিত হোক, সেটা আমি চাই না।’ আমার ওই বক্তব্যের ‘অন্ধকার অধ্যায়’ অংশটুকুও এক্সপাঞ্জ করেছি।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির এমপি খোন্দকার আবু আশফাক বলেছেন, ‘মাওলানা মামুনুল হক অনেক বড় বড় কথা বলছেন। কিন্তু তিনি যে নারায়ণগঞ্জে একটি নারীসহ ধরা পড়লেন, মুতা বিয়ের নামে, সেটা আসলে কী ছিল?।’
সংসদ সদস্যের এই বক্তব্য ওইদিনই এক্সপাঞ্জ করেন স্পিকার। কিন্তু এই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করতে গিয়ে স্পিকার বলেন, ‘একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ এখানে আলোচিত হোক, চাই না আমরা।’ পরবর্তীতে স্পিকারের এই বক্তব্য নিয়েও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
স্পিকারের মন্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিকর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ উল্লেখ করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে দলটি বলেছে, ‘পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে যে মাওলানা মামুনুল হককে সংসদে যেতে দেওয়া হয়নি, আজ তিনি সংসদে উপস্থিত না থাকলেও সংসদের ভেতরে তাঁকে নিয়েই আলোচনা হচ্ছে। এতে প্রতীয়মান হয়, কিছু রাজনৈতিক মহল এখনও তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ভয় পায় এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পুরোনো অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর বয়ান পুনরুজ্জীবিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন