প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
‘ইরান দল খেলছে না, খেলছে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের দল।’ লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর আগে ফুটবল ও রাজনীতিকে আলাদা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করলেন রুজবেহ ফারাহানিপানি। ২০০০ সালে রাজনৈতিক কারণে ইরান থেকে পালিয়ে আসা এই অধিকারকর্মী বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসের বৃহৎ ইরানি কমিউনিটির একজন পরিচিত মুখ। তার জন্য এই বিরোধিতা ব্যক্তিগত কারণেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বর্তমান সরকারের নিষ্ঠুর দমন-পীড়নে তিনি হারিয়েছেন তার মা ও স্বজনদের। তবে এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধ বা সংঘাতের বদলে একটি ছায়াযুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে ফুটবলকে কেন্দ্র করে।
চলতি বিশ্বকাপে লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলে ইরানের ম্যাচ থাকায় স্থানীয় ইরানি-আমেরিকান প্রবাসীদের মধ্যে চরম দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। একদিকে ফুটবলপ্রেমী হিসেবে নিজেদের দলের প্রতি ভালোবাসা রয়েছে, অন্যদিকে দেশের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর প্রতি বিদ্বেষ; এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে আছেন তারা। বিশেষ করে ১৫ জুন সোফি স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে স্টেডিয়ামের বাইরেও তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের হাতে রয়েছে সবুজ, সাদা ও লাল রঙের পতাকা, যার মাঝে সিংহ ও সূর্যের প্রতীক প্রদর্শিত। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের আগে তৈরি এই পতাকাটি বর্তমানে প্রবাসীদের কাছে প্রতিরোধের প্রধান প্রতীক হয়ে উঠেছে। আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে, বর্তমান সরকারের পতাকায় থাকা ইসলামিক প্রতীক তাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করে না, বরং এটি একটি দমনকারী সরকারের পরিচায়ক। অতি সম্প্রতি ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর ঘটনা এই ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের বৈধতা অর্জনের জন্য তেহরান ফুটবলকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
তবে ফিফা এই সিংহ ও সূর্য খচিত পতাকাটিকে রাজনৈতিক প্রতীক হিসাবে চিহ্নিত করে স্টেডিয়ামের ভেতরে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। ফুটবল নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্দোলনকারীরা বলছেন, আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে ফিফা মানুষের বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে না। অন্যদিকে, ইরান ফুটবল ফেডারেশন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য তাদের বর্তমান অফিশিয়াল পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের দাবি জানিয়েছে।
খেলোয়াড়রা রাজনীতিকে ফুটবল থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানালেও, সাধারণ ইরানি প্রবাসীদের পক্ষে এটি মানা কঠিন হয়ে পড়েছে। আন্দোলনকারীদের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে মন্তব্য করছেন যে, মাঠে লড়াই করা খেলোয়াড়রা তাদের সন্তানদের মতো, কিন্তু বর্তমান সরকারের জার্সি গায়ে জড়ানোর পর তারা আর শুধু খেলোয়াড় থাকছেন না, বরং সরকারের প্রচারযন্ত্রের অংশ হয়ে যাচ্ছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন