প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্ধৃত করে বলেন, “ম্যাডাম খালেদা জিয়া আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘ছাত্রদলে ছাত্র নাই, সব বস্তির টোকাই।’ এটি আমাদের নিজস্ব কোনো বক্তব্য নয়, এটি বেগম খালেদা জিয়ারেরই বক্তব্য।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী উপলক্ষে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের বিচারের দাবি জানাতে রংপুরের শাপলা চত্বরে ১১ দলের ঐক্যের গণসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বুধবার সন্ধ্যায় রংপুর মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী তার বক্তব্যে বলেন, ‘ইংরেজি ক্যালেন্ডারে আজ ৫ আগস্ট হলেও তরুণ প্রজন্মের ক্যালেন্ডারে আজ ৩৬শে জুলাই। এই ৩৬শে জুলাইয়ে বর্তমান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব কারাগার থেকে বেরিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন, ‘ছোট ছোট মাসুম বাচ্চারা আজ আমাদেরকে কারাগার থেকে মুক্ত করেছেন।’
তবে দুই বছর পেরিয়ে যেতে না যেতেই সেই মাসুম বাচ্চারা নাকি আজ তাদের কাছে বড় বেয়াদব হয়ে গেছে। এই পরিবর্তন তরুণ প্রজন্ম দেখতে চায় না।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নির্বাচন ও সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি মাদ্রাসায় হঠাৎ করে ছাত্রলীগের প্রতিচ্ছবি জাতির সামনে ভেসে উঠেছে। পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন ছাত্র শিবির নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে হোয়াইট ওয়াশ করেছিল, সেদিন থেকেই তাদের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন জুলাই প্রদর্শনী চলছিল, তখন ছাত্রদলের ভাইয়েরা গিয়ে সাঈদী, নিজামী ও মুজাহিদের ছবি সরাতে বলেন। অথচ এই নেতাদের পাশে নিয়ে একসময় বেগম খালেদা জিয়া নিজেই সরকার পরিচালনা করেছেন।
তাদের বিচার যদি অন্যায় হয়, তবে খালেদা জিয়ার মামলা কিংবা তারেক জিয়ার সাজাও জুলুম ছিল। আমরা স্পষ্ট বলি, ফ্যাসিবাদের আমলের সকল বিচারই ছিল বিচারের নামে জুলুম।”
তিনি আরও বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি রংপুরের জনগণ আপনাদেরকে লালকার্ড দেখিয়েছে। ছাত্র-জনতার গণজোয়ার দেখে সেদিন আপনারা দিকবিদিক পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং পরদিন টোকাইদের সম্মেলন ডেকে তাদের হাতে রামদা ও অস্ত্র তুলে দিয়েছিলেন।’
আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও মতিউর রহমান নিজামীর ব্যানারে আঘাত করার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যারা আলেম-ওলামাদের ব্যানারে জুতা দিয়ে আঘাত করেছেন, তাদের লক্ষণ ভালো নয়। শাহবাগেও এমন চিত্র দেখা গিয়েছিল, যার পরিণতিতে হ্যালিকপ্টারে চড়ে পালায়ন করতে হয়েছিল। আলেম-ওলামা এবং জাতির কলিজার টুকরা সাঈদীকে নিয়ে তামাশা করবেন না।’
গণসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল।
মহানগর জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ এটিএম আজম খানের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি আনোয়ারুল হক কাজলের সঞ্চালনায় সমাবেশে ১১ দলের ঐক্যের জেলা ও মহানগর পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন রংপুর মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট কাওছার আলী, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রংপুর জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, মহানগর সদস্য সচিব আব্দুল মালেক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহানগর সাধারণ সম্পাদক মুফতি নেয়ামত উল্লাহ, এবি পার্টির মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রউফ, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান মাহবুব, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রংপুর জেলা সভাপতি হামিদুর রহমান, মহানগর সেক্রেটারি সাজ্জাদ হোসেন এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সভাপতি রাকিব মুরাদসহ ১১ দলের ঐক্যের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন