প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের কন্যা ফোবি গেটসের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ‘কুকি স্টাফিং’ নামে পরিচিত একটি অনলাইন বিজ্ঞাপন ও কমিশন জালিয়াতির ঘটনা।
অভিযোগের আসরে বলা হয়েছে, ফোবি গেটস ও তার সহপ্রতিষ্ঠাতা সোফিয়া কিয়ান্নির স্টার্টআপ ‘ফিয়া’ অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে একটি দূষিত প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছিল। তারা এমনভাবে অ্যাফিলিয়েট ট্র্যাকিং কোড ব্যবহার করত, যাতে ব্যবহারকারী সরাসরি তাদের মাধ্যমে কোনো পণ্য না কেনলেও বিক্রির কমিশন ফিয়ার নামে চলে আসতে পারত। এই প্রক্রিয়াকে ‘কুকি স্টাফিং’ বলা হয়।
আইনগত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ফিয়ার ব্রাউজার এক্সটেনশন ব্যবহারকারীদের অজান্তে অনলাইন দোকানের সঙ্গে যুক্ত অ্যাফিলিয়েট লিংক সংযোগ করত। এভাবে অন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বাস্তবিক ভূমিকা থাকলেও কমিশনের কৃতিত্ব ফিয়া দাবি করতে পারত।
প্রথমদিকে ফিয়া এটিকে একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি হিসেবে দাবি করেছিল। তবে পরবর্তীতে প্রকাশিত তথ্য এবং অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর অভিযোগ অধিকতর জোরালো হয়েছে। বর্তমান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোবি গেটস ও সোফিয়া কিয়ান্নি এই বিষয়ে বেশ কয়েক মাস ধরে অবগত ছিলেন কি না, সেটা নিয়েও তদন্ত ও বিতর্ক চলছে।
ফিয়া জানায়, বিতর্কিত ফিচারটি গত ৭ জুলাই প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যেসব লেনদেনে ভুলভাবে কমিশন তাদের নামে সংযুক্ত হয়েছে, সেগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ড ও অংশীদারদের অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ তারা নিয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকানোর জন্য কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন অনুযায়ী এর গুরুতর আইনগত পরিণতি হতে পারে, এবং কিছু ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডেরও বিধান থাকতে পারে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ফোবি গেটসের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো ফৌজদারি অভিযোগ বা সাজা হয়েছে, এমন তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
২০২৫ সালে চালু হওয়া ফিয়া একটি অনলাইন শপিং সহকারী প্ল্যাটফর্ম। এটি বিভিন্ন ওয়েবসাইটের পণ্যের দাম তুলনা ও ডিসকাউন্ট কোড খুঁজে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত। ফোবি গেটস যেহেতু বিল গেটসের মেয়ে, সেহেতু এই অভিযোগটি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট ও ব্লুমবার্গ
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন