প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে একটি স্যুটকেসের ভেতর থেকে ব্রিটিশ নাগরিক এলিজাবেথ জেন রসের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ২৬ বছর বয়সী এক আফগান যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে যুবকটি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশের তথ্য মতে, তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ৩৮ বছর বয়সী এলিজাবেথ জেন রস, যিনি ‘লিসা’ নামেও পরিচিত ছিলেন, গত ১৮ জুলাই এথেন্সের কিপসেলি এলাকার একটি পরিত্যক্ত গাড়ি পার্কিং থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একটি স্যুটকেস পড়ে থাকতে দেখে এক গৃহহীন ব্যক্তি পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, লিসার সঙ্গে ওই আফগান যুবকের পরিচয় হয়েছিল শরণার্থী ও গৃহহীন মানুষের সহায়তায় স্বেচ্ছাসেবী কাজের সূত্রে। তদন্তে দেখা যায়, লিসার ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে নগদ অর্থ তোলা হয়েছিল। এই সূত্র ধরেই সন্দেহভাজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
তদন্তে আরও তথ্য পাওয়া যায়, স্যুটকেসে ওই যুবকের আঙুলের ছাপ রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজেও তাকে স্যুটকেসটি বহন করে পরিত্যক্ত পার্কিং এলাকায় নিয়ে যেতে দেখা গেছে। পরে ৩০ জুলাই এথেন্সের একটি ঠিকানা থেকে তাকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে যুবকটি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর নিখোঁজ এলিজাবেথের মরদেহ স্যুটকেসে ভরে নির্জন স্থানে ফেলে রাখা হয়। এরপর তার ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে নগদ অর্থ তোলা হয়। অভিযুক্তের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে একটি নকল পিস্তল ও একটি ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
লিসা ছিলেন ধর্মপ্রাণ খ্রিষ্টান এবং গত সাত বছর ধরে নিয়মিত গ্রিসে যাতায়াত করতেন। শরণার্থী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহায়তায় কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবী ছিলেন তিনি। গ্রিসের ‘ওয়ান হার্ট’ নামের একটি সংগঠনের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন, যারা আফগানিস্তান ও ইরান থেকে আসা শরণার্থীদের চিকিৎসাসহায়তা দিয়ে থাকে।
গত ২৬ জুন তিনি এথেন্সে পৌঁছান এবং কেরাতসিনি এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। ১৫ জুলাই তিনি পরিচিত কয়েকজন মার্কিন বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা করেছিলেন। এর মাত্র ৭২ ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, মৃত্যুর পরও লিসার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার পরিবার ও পরিচিতদের কাছে বার্তা পাঠিয়ে তাকে জীবিত দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তার বাবার কাছে ১৫ থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন বার্তা পাঠানো হয় এবং পরে ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়।
সূত্র: ডেইলি মেইল
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন