প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নাটোরের লালপুর উপজেলার একটি অজপাড়াগাঁয়ে এক ব্যতিক্রমী ও হৃদয়স্পর্শী বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিনের সেবার পর অবসর গ্রহণ করা সহকারী শিক্ষক মো. সিরাজ উদ্দিনকে ঘোড়ার গাড়িতে করে রাজকীয়ভাবে বিদায় জানানো হয়।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বড়বাদকয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছা. নাসিমা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. লুৎফর রহমান।
তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ‘শিক্ষক সিরাজ উদ্দিন শুধু একজন শিক্ষক নন, তিনি এই এলাকার শিক্ষার আলোকবর্তিকা ছিলেন। তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
অনুষ্ঠানটিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মো. বশির উদ্দিন, ৫ নং বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. মুজিবুর রহমান, সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কাশেম, বিলমাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শমজান আলী এবং লালপুর শ্রীসুন্দরী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শাজেউল ইসলাম। স্থানীয় বিএনপি নেতা মাইনুল ইসলাম ভুট্টুও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আবেগঘন বক্তব্যও রাখা হয়। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মো. মুনতাসিন আলী ও চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী লামিয়া খাতুন তাদের প্রিয় শিক্ষকের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করে বক্তব্য প্রদান করেন। তাদের কণ্ঠে ছিল আবেগ আর কৃতজ্ঞতার ছোঁয়া, যা উপস্থিত সবাইকে আপ্লুত করে তোলে।
বিদায় অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ঘোড়ার গাড়িতে করে শিক্ষককে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া। স্কুল মাঠ থেকে শুরু করে গ্রামের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে তাকে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে এই প্রিয় শিক্ষককে শেষ বিদায় জানান।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে দোয়া মাহফিলেরও আয়োজন করা হয়, যেখানে শিক্ষক সিরাজ উদ্দিনের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।
পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গাছ রোপণ কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়, যা অনুষ্ঠানকে আরো প্রাণবন্ত করে তোলে।
বড়বাদকয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই শিক্ষক সিরাজ উদ্দিন নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষাদান করে আসছিলেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে আলোর পথে এগিয়ে দিয়েছেন। তাই তার বিদায়স্থানীয়রা দেখছেন শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একটি যুগের অবসান হিসেবে।
এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন প্রমাণ করে, একজন আদর্শ শিক্ষক কেবল পাঠদানেই সীমাবদ্ধ থাকেন না—তিনি সমাজ গঠনের অন্যতম কারিগর। সেই কারণেই লালপুরবাসী তাদের প্রিয় শিক্ষককে দিলেন এক স্মরণীয় ও রাজকীয় বিদায়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন