প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লেবাননে বেসামরিক মানুষকে ব্যাপকভাবে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির মতে, এই ধরনের জোরপূর্বক উচ্ছেদ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দেওয়া বিবৃতিতে মানবাধিকার সংস্থাটি জানায়, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষকে জোর করে সরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অনেক ক্ষেত্রে তাদের নিজ বাড়ি ও এলাকায় ফিরে যাওয়ার পথও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, এটি বেআইনি স্থানান্তরের শামিল এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এ ধরনের উচ্ছেদ নির্দেশ জারির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। এর ফলে লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের উপপরিচালক ক্রিস্টিন বেকারলি বলেন, পুরো সম্প্রদায়কে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা এবং দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা সাধারণ মানুষের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা কোনো সমাধান হতে পারে না। তার মতে, ইসরায়েলি বাহিনীর উচিত অবিলম্বে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সরে যাওয়া।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার একদিন পরই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী লেবাননের প্রায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ এলাকা বেসামরিক মানুষের জন্য নিষিদ্ধ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে। এর ফলে ওইসব এলাকার বাসিন্দারা নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারেননি।
সংস্থাটি আরো জানায়, ২০২৬ সালের ১৭ এপ্রিল নতুন যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র তিন দিন পর এই নিষিদ্ধ এলাকার পরিমাণ আরো বাড়ানো হয়। পরে লেবাননের প্রায় ছয় শতাংশ ভূখণ্ডকে 'ফরোয়ার্ড ডিফেন্স' অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে এমন কয়েকটি গ্রামে মানুষকে ফিরে যেতে নিষেধ করা হয়, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে হাজার হাজার মানুষ বসবাস করতেন।
এদিকে লেবাননের কর্মকর্তাদের দাবি, দুই মার্চ থেকে দেশটিতে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান আরো তীব্র হয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে ৩ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১১ হাজার ৮৫০ জনেরও বেশি। এছাড়া সংঘাতের কারণে ১০ লাখের বেশি মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলা সব পক্ষের দায়িত্ব। লেবাননের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন