প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের যুব প্রতিনিধি হিসেবে রাশিয়ার ইয়াকেতিনবার্গ শহরে অনুষ্ঠিতব্য ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথ-২০২৬’ এ অংশ নেবেন হালিমা ইয়াসমিন মুক্তা। বর্তমানে তিনি লিথুয়ানিয়ার কনাস শহরের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ‘লিথুয়ানিয়ান স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি’তে ‘ট্যুরিজম অ্যান্ড স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট’ বিভাগের মাস্টার্স প্রোগ্রামে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে অধ্যয়ন করছেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বের ১৯১টি দেশের যুব প্রতিনিধিদের কাছে আবেদন নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে ফেস্টিভ্যালের আয়োজক যুব বিষয়ক রাশিয়ার কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘রজমলোদেজ’ এবং ‘ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল অধিদপ্তর’। মুক্তা সফলভাবে জমা দেওয়া আবেদনের মধ্যে থেকে প্রতিযোগিতামূলক বাছাই প্রক্রিয়ায় ‘ফুল ফান্ডেড পার্টিসিপেন্ট’ হিসেবে নির্বাচিত হন। অর্থাৎ, ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণের জন্য মুক্তার সব যাতায়াত এবং হোটেলে অবস্থানের খরচ আয়োজক কর্তৃপক্ষ বহন করবে।
আয়োজক কর্তৃপক্ষ সৃজনশীল শিল্প, জনপ্রশাসন, বিজ্ঞান ও শিক্ষা, খেলাধুলা, উদ্যোক্তা, মিডিয়া-ডিজিটালাইজেশন ও আইটি এবং সামাজিক খাতের দুই ক্যাটেগরিতে যুব প্রতিনিধিদের আবেদন গ্রহণ ও অনুমোদন করে। এর মধ্যে ‘সৃজনশীল শিল্প’ এবং ‘মিডিয়া-ডিজিটালাইজেশন ও আইটি’ ক্যাটেগরিতে আবেদন করে নির্বাচিত হন মুক্তা।
তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন লালমাটিয়া মহিলা কলেজ থেকে একাউন্টিং বিষয়ে সম্মানসহ স্নাতক ডিগ্রি গ্রহণ করেন এবং ট্যুরিজম খাতে ক্যারিয়ার শুরু করেন। মুক্তা ‘ভিসা প্রসেসিং এনালিস্ট’ হিসেবে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় স্টার্টআপ ‘শেয়ার ট্রিপ’ এবং শ্রীলংকাভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ‘উইংস ট্রাভেলস’-এ কাজ করেন। গত বছরের ডিসেম্বরে মুক্তা ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি বিষয়ে অধিকতর পড়াশোনা করার জন্য লিথুয়ানিয়াতে যান।
তিনি বলেন, “ফেব্রুয়ারিতে আবেদনের পর ফেস্টিভ্যালের কথা একরকম ভুলেই গিয়েছিলাম। আমি যে নির্বাচিত হবো, তাও ফুল ফান্ডেড; বিন্দুমাত্র আশা ছিল না। তবে এখন খুবই ভালো লাগছে। বিশেষ করে এটা ভেবে গর্ব হচ্ছে যে, এত বড় একটি প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশকে, বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরতে পারবো। দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সম্মানের অনুভূতি সত্যিই দারুণ”।
মুক্তা এই ফেস্টিভ্যালের মাধ্যমে নিজের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের তরুণদের মাঝে যে প্রতিভা, সততা ও পরিশ্রমের মানসিকতা রয়েছে; সেটিকে সার্থক ও সফল রূপ দিতে পারে সম্ভাবনাময় এই আয়োজন। তাই আমার মতো তরুণদের জন্য সুযোগ আছে এখান থেকে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়ানো, বিশেষ করে অন্যান্য দেশের তরুণ প্রতিনিধির সাথে মেলবন্ধন করার। এছাড়াও, রাশিয়া সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যে সফল পেশাজীবী, মেন্টররা আসবেন; তাদের থেকে শেখার এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ কাজে লাগাতে চাই। লিথুয়ানিয়ায় পড়াশুনা শেষে দেশে ফিরে নিজের একটি স্টার্টআপ দেওয়ার স্বপ্ন আছে। সে বিষয়ে বিনিয়োগকারী এবং আন্তর্জাতিক মেন্টরশিপ পাওয়ার চেষ্টা থাকবে আমার।
আগামী ১১ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য এই আয়োজনে মোট ১০ হাজার যুব প্রতিনিধি অংশ গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে পাঁচ হাজার যুব প্রতিনিধি রাশিয়া ব্যতীত বিশ্বের ১৯১টি দেশের আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি হিসেবে আমন্ত্রিত হবেন। তরুণ-তরুণীদের নিয়ে আয়োজিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই ফেস্টিভ্যালে যুব প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক মেলবন্ধন, নিজেদের প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী, বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পেশাজীবী এবং গবেষকদের সাথে যোগাযোগের সুযোগ পাবেন।
বাছাই প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ নম্বরের ভিত্তিতে নির্বাচিত যুব প্রতিনিধিদের ফেস্টিভ্যালে অংশ নেওয়ার সকল খরচ বহন করবে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি আংশিক খরচ বহন করা হবে অন্যান্য নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীদের জন্য। এই ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণকারী সকল বিদেশি নাগরিকের জন্য রাশিয়া ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় রুশ ভিসার ফিও মওকুফ করা হয়েছে।
ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল অধিদপ্তরের প্রেস টিম নিশ্চিত করেছে যে, বাংলাদেশকে মোট ৯০ জন প্রতিনিধি এবার নির্বাচিত হবেন। তবে প্রতিনিধি বাছাই প্রক্রিয়া এখনও চলমান, তাই বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত নির্বাচিত যুব প্রতিনিধির সংখ্যা জানাতে পারছে না সংস্থাটি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন