প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ মন্তব্য করেন, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সরকার পরবর্তী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে সারাদেশে মোট দুই হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
আজ (সোমবার) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘রিপারপোজিং অ্যাগ্রিকালচারাল পাবলিক স্পেন্ডিং ফর কোয়ালিটি গ্রোথ অ্যান্ড জবস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক পলিসি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বিষয়টি উল্লেখ করেন।
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সাথে সম্পৃক্ত। সামগ্রিক অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য কৃষিকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকার বাস্তবমুখী নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে।
তিনি এও বলেন, কৃষকরা উৎপাদন করলেও অনেক ক্ষেত্রে সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে তারা ন্যায্যমূল্য পান না। বিশেষত সবজি ও পচনশীল কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে মৌসুমে দাম কমে যায়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য কৃষকদের কাছে সংরক্ষণ সুবিধা পৌঁছানোর জন্য মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ১৫ থেকে ২০ জন কৃষককে নিয়ে সমবায়ভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় এই কোল্ড স্টোরেজগুলো পরিচালিত হবে এবং এগুলো সৌরবিদ্যুৎচালিত হবে। ইতিপূর্বে পাইলট প্রকল্পে এ ব্যবস্থার সফলতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। যদি দুই হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা যায়, তাহলে প্রায় ৪০ হাজার কৃষক সরাসরি এর সুবিধা লাভ করবেন।
আমিন উর রশিদ বলেন, কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও বাজার চাহিদার মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে সরকার ডাটাবেসভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। এভাবে কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন করার সুযোগ পাবেন এবং ভোক্তারাও সারা বছর তুলনামূলক স্থিতিশীল দামে কৃষিপণ্য পাবেন।
কৃষিমন্ত্রী আরও জানান, সরকার পেঁয়াজ, পেঁয়াজবীজ ও আদা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে দেশে পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজন হবে না। তাছাড়া তিন বছরের মধ্যে পেঁয়াজবীজ ও আদা উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, দেশের মাটির অম্লতা কমিয়ে উর্বরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। মাটির পিএইচ মাত্রা উন্নতির ফলে সার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, কৃষিতে ডিজেল ও বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে সৌরশক্তির উপর নির্ভরশীল সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েক হাজার সেচযন্ত্রকে সৌরশক্তিচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকসহ উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগিতায় কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে নানা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। কৃষিখাতে সরকারি ব্যয়ের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রণীত গবেষণা ও সুপারিশগুলো সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনার জন্য রাখবে।
সভায় সূচনা বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের বাংলাদেশ এন্ড ভূটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের জেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ড. মানসুর আহমেদ এবং গবেষণা বিশ্লেষক জোনায়েদ সহল। সভায় বিশ্বব্যাংকের আঞ্চলিক প্রতিনিধি ড. ডিনা উমালি ডেইনিঙ্গারসহ নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন স্তরের অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন